মোস্তাফিজ ৩১৫টি ম্যাচে ৪০০টি টি‑টোয়েন্টি উইকেট সংগ্রহ করে পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গতি অর্জন করেছেন। এই সাফল্য তাকে টি‑টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম ৪০০‑উইকেটধারী করে তুলেছে, যা পূর্বে ওয়াহাব রিয়াজের ৩৩৫তম ম্যাচে গড়া রেকর্ডকে অতিক্রম করে।
টিমের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট দশজন বোলার ৪০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছেছেন, যার মধ্যে পাঁচজন পেসার। এদের প্রত্যেকের যাত্রা ভিন্ন, তবে মোস্তাফিজের গতি বিশেষভাবে নজরকাড়া।
ব্রাভো, যাকে “স্লোয়ার মাস্টার” বলা হয়, তার মোট ৬৩১টি টি‑টোয়েন্টি উইকেট রয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তিনি ৪০০ উইকেট ৩৬৫ ম্যাচে অর্জন করেন, যা পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম।
রাসেল ৪০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করেন ৪৫৪তম ম্যাচে, এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তার মোট উইকেট সংখ্যা ৫০৭ে পৌঁছায়। তার ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতা তাকে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের উদাহরণ করে তুলেছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের পরিচিত মুখ জর্ডান ৪০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছাতে ৩৮১টি ম্যাচের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে তার মোট উইকেট সংখ্যা ৪৪৬, যা তাকে টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ওয়াহাব রিয়াজের রেকর্ড, যা আগে সর্বোচ্চ গতি হিসেবে বিবেচিত ছিল, ৩৩৫তম ম্যাচে গড়ে ওঠে। পাকিস্তানি পেসার রিয়াজের এই কীর্তি বহু বছর ধরে রেকর্ড শিরোপা ধরে রেখেছিল, তবে মোস্তাফিজের দ্রুততা তা অতিক্রম করেছে।
অমির ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ৩৪৩ ম্যাচে স্পর্শ করেন। তার এই অর্জন পেসারদের মধ্যে তৃতীয় দ্রুততম হিসেবে স্বীকৃত, যা টি‑টোয়েন্টি বোলিংয়ের গতি ও দক্ষতার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে।
মোস্তাফিজের এই সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং দেশের পেসারদের জন্য একটি প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। তার ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম করবে।
কোচিং স্টাফের মতে, মোস্তাফিজের দ্রুত অগ্রগতি তার শারীরিক প্রস্তুতি, লাইন ও লম্বার সঠিক ব্যবহার এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল কৌশলের ফল। এই গুণগুলো তাকে আধুনিক টি‑টোয়েন্টি বোলিংয়ের এক মডেল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে পেসারদের জন্য উইকেট সংগ্রহের গতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ম্যাচের সীমিত ওভার সংখ্যা তাদের আক্রমণাত্মক ভূমিকা বাড়িয়ে দেয়। মোস্তাফিজের রেকর্ড এই প্রবণতাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
এখন পর্যন্ত টি‑টোয়েন্টি ইতিহাসে ৪০০ উইকেটের ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং নতুন প্রজন্মের বোলাররা এই মাইলফলককে লক্ষ্য করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। মোস্তাফিজের সাফল্য তাদের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
মোস্তাফিজের এই রেকর্ড তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলবে। টি‑টোয়েন্টি বোলিংয়ের এই নতুন দিগন্তে তিনি এখনো অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখেন।



