বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) দেশের আটটি বিভাগে নির্বাচনী প্রচারণা ত্বরান্বিত করতে প্রস্তুত, যেখানে পার্টির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমানের দেশব্যাপী সফর আগামী সপ্তাহে শুরু হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
বিএনপির যৌথ সচিব সাধারণ সৈয়দ এমরান স্যালহ প্রিন্সের মতে, নির্বাচনের সময়সূচি ইতিমধ্যে ঘোষিত হওয়ায় পার্টি সক্রিয়ভাবে প্রচারমূলক কাজ চালিয়ে যাবে এবং তা তারিকের নেতৃত্বে এগিয়ে নেবে। তিনি এ কথাটি পার্টির সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সফরের সূচনা হবে রংপুর থেকে, যেখানে তারিক প্রথম রেলস্টেশন ও স্থানীয় সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলবেন। রংপুরের পর তিনি ধীরে ধীরে বাকি সাতটি বিভাগে গিয়ে সমাবেশের আয়োজন করবেন, শেষ গন্তব্য হবে রাজধানী ঢাকা।
যাত্রাপথে তারিকের জন্য বিশেষভাবে আমদানি করা বুলেটপ্রুফ বাস ব্যবহার করা হবে, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে বিভিন্ন শহরে দ্রুত পৌঁছাতে সহায়তা করবে। প্রতিটি রেলিক্সে তিনি জনসমাগমে ভাষণ দিয়ে পার্টির নীতি ও লক্ষ্য তুলে ধরবেন।
রংপুরে সফরের অংশ হিসেবে তারিক সম্ভবত ১৬ জুলাই ২০২৪-এ পুলিশ গুলিতে নিহত ২৫ বছর বয়সী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কর্মী আবু সায়েদের পরিবারকে পরিদর্শন করবেন। এই ভুক্তভোগীর স্মরণীয় ঘটনা জুলাই উত্থানের মোড় পরিবর্তনকারী হিসেবে বিবেচিত।
এ ধরনের সফর পার্টির প্রচারকে দেশের সামগ্রিক জনমতের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্য বহন করে, বিশেষ করে উত্থানের পর জনসাধারণের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে। পার্টি নেতারা বিশ্বাস করেন, এই ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ভোটারদের মধ্যে পার্টির প্রতি আস্থা বাড়াবে।
রংপুরের পর তারিক রাজশাহী ও বগুড়া বিভাগে থামবেন। বগুড়া-৬ থেকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাই এই অঞ্চলে তার উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বগুড়ার সমাবেশে পার্টির স্থানীয় সংগঠক ও কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
বগুড়ার পর সফর ময়মনসিংহে চালিয়ে যাবে, যেখানে তিনি পূর্বাঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া করবেন। ময়মনসিংহের সমাবেশে পার্টির মূল নীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুনরায় জোর দেওয়া হবে।
সফরের শেষ ধাপ হবে রাজধানী ঢাকা, যেখানে তারিকের গুলশান অফিসে নিয়মিত পার্টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তিনি সরাসরি ভোটার ও পার্টি কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন।
ঢাকায় তারিকের উপস্থিতি পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচন কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলতে এবং কোনো অবমাননাকর কাজ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া, পার্টি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত তারিকের প্রচারপত্র, ব্যানার ও পোস্টারগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলবে, যাতে কোনো বিরূপ চিত্র না তৈরি হয়। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে সহায়তা করবে।
বিএনপি ইতিমধ্যে নির্বাচনের পূর্বে বেশ কিছু সাংগঠনিক কাজ সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা এবং স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত। এই প্রস্তুতি পার্টির নির্বাচনী কৌশলকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।



