22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমেক্সিকোর রাজধানী ও এক পর্যটন শহরে ৬.৫ মাত্রার ভূকম্পন, দুইজনের মৃত্যু

মেক্সিকোর রাজধানী ও এক পর্যটন শহরে ৬.৫ মাত্রার ভূকম্পন, দুইজনের মৃত্যু

শুক্রবার সকাল ৮টা কাছাকাছি, মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি এবং প্রশান্ত মহাসাগরের তটবর্তী পর্যটন শহর একাপুলকোর মধ্যে ৬.৫ মাত্রার ভূকম্পন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস অনুসারে, কম্পনটি গেরেরোর সান মার্কোস শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্রীভূত হয়। কম্পনের ফলে দুইজনের মৃত্যু এবং বহুজনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে, পাশাপাশি সান মার্কোসের বেশ কিছু বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মেক্সিকো সিটিতে কম্পনটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে অনুভূত হয়, যেখানে সিটি অ্যালার্ম বাজে এবং মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে নিরাপত্তা খোঁজে। এই সময়ে শহরের বেশিরভাগ মানুষ ছুটির সপ্তাহান্তে ছিল, ফলে অস্থায়ী বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মেক্সিকো সিটিতে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে পড়ার সময় পড়ে মারা যান। মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, কম্পনে ১২ জন আহত হয়েছেন, তবে শহরের বড় কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কোনো রিপোর্ট নেই।

প্রেস কনফারেন্সের সময় প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস থেকে বের হতে বাধ্য হন। তিনি উল্লেখ করেন, সান মার্কোসে ক্ষতির মাত্রা বেশি, তবে মেক্সিকো সিটিতে বড় কোনো ধ্বংসাবশেষের খবর পাওয়া যায়নি। গেরেরোর গভর্নর ইভেলিন স্যালডাগো জানান, সান মার্কোসে এক মহিলা তার বাড়ি ধসে যাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। মেয়র মিসায়েল লোরেনজো কাস্টিলো জানান, প্রায় ৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং বাকি সব বাড়িতে ফাটল দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এএফপি সাংবাদিককে তাদের বাড়ির ফাটল এবং ধসে যাওয়া প্রাচীরের অংশ দেখিয়ে জানান যে, সান মার্কোসে ক্ষতি ব্যাপক। একজন বাসিন্দা রোজেলিও মরেনো বলেন, “সান মার্কোসে পরিস্থিতি খুবই কঠিন, বাড়িগুলো ধ্বংস হয়েছে”।

মেক্সিকো ভূতাত্ত্বিকভাবে পাঁচটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা দেশকে পৃথিবীর সর্বাধিক সিসমিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলের একটি করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সিসমিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা গ্লোবাল সিসমিক নেটওয়ার্কের একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “মেক্সিকোর টেকটোনিক গঠন প্রায়ই শক্তিশালী ভূকম্পনের কারণ হয়; এই ধরনের ঘটনা পূর্বাভাস ও প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে”।

মেক্সিকো সরকার জরুরি সেবা ও পুনর্গঠন কাজের জন্য জাতীয় সিসমোলজিক্যাল সেবা (সিএনএস) এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় বাড়িয়ে তুলেছে। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সুরক্ষা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ সামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ভূকম্পনটি মেক্সিকোর সাম্প্রতিক সিসমিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যা দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত শহরগুলোতে ভবন নির্মাণের মানদণ্ড ও জরুরি পরিকল্পনা শক্তিশালী করা জরুরি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সিসমিক তথ্য শেয়ারিং এবং ত্রাণ সহযোগিতা ইতিমধ্যে বহুবার সফল হয়েছে। এইবারও উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সহায়তা প্রদান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ভূকম্পন মেক্সিকোর তটবর্তী ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, যদিও মেক্সিকো সিটিতে বড় কোনো সম্পত্তি ক্ষতি রেকর্ড হয়নি। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা দ্রুত পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments