22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশায়েস্তাগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মী আটক, বৈষম্যবিরোধী নেতা চাপ দিয়ে মুক্তি

শায়েস্তাগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মী আটক, বৈষম্যবিরোধী নেতা চাপ দিয়ে মুক্তি

শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ শুক্রবার ভোরে ছাত্রলীগের কর্মী এনামুল হাসান নয়নকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত না হলেও, সূত্র অনুযায়ী তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে পূর্বে যুক্ত ছিলেন।

গ্রেফতার পরই হাবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসান নেতৃত্বে একটি দল থানায় উপস্থিত হয়। দলটি নিজেদেরকে “জুলাই যোদ্ধা” বলে পরিচয় দিয়ে, গ্রেফতারকৃতকে ছাড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে।

মহিলা ও পুরুষ সদস্যদের নিয়ে গঠিত দলটি পুলিশকে সরাসরি চাপ দেয়। প্রথমে থানা ওসি আবুল কালাম গ্রেফতারকৃতকে মুক্তি দিতে অস্বীকার করেন এবং মাহদী হাসানের সঙ্গে তীব্র তর্কে লিপ্ত হন। তর্কের সময় উভয় পক্ষের মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থানা কর্মকর্তারা শেষমেশ এনামুল হাসান নয়নকে ছাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গ্রেফতারকৃতকে মুক্তি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি দলের ধারাবাহিক দাবি এবং তীব্র আলোচনার ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।

মাহদী হাসানের এই ঘটনার পরের মন্তব্যে তিনি বলেন, রাগের মুহূর্তে কিছু শব্দ ভুলে গিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি পরে প্রকাশ করেন যে, তার কথাগুলি অপ্রয়োজনীয়ভাবে তীব্র হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি তা স্বীকার করেন।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, এনামুল হাসান একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য নয়। তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও, গ্রেফতারকৃতের পূর্বের সংযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

হাবিগঞ্জের একজন সিনিয়র আইনজীবী উল্লেখ করেন, মাহদী হাসানের উক্তি ভবিষ্যতে কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় স্বীকারোক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তিনি বলেন, যদি এই ঘটনার ওপর মামলা দায়ের হয়, তবে উক্তি আদালতে প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

থানার ওসি আবুল কালামকে ঘটনায় মন্তব্যের জন্য ফোন করা হয়, তবে তিনি কলের উত্তর দেননি। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, ওসির সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। থানা কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।

আইনি দিক থেকে, গ্রেফতার এবং মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তদন্ত চলমান। সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, আদালতে মামলার দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।

মাহদী হাসানের মন্তব্য এবং তার দলের কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কাজের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্যরা দাবি করে যে, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র গ্রেফতারকৃতের মুক্তি নয়, বরং ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments