নাট্যশিল্পী নানি ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তার নতুন ছবির পোস্টার প্রকাশ করে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে বাধ্য করেন। পোস্টারটি একই সঙ্গে ছবির থিয়েটার মুক্তির তারিখ, ২৬ মার্চ, ২০২৬ নির্ধারিত হওয়াও জানায়।
অভিনেতা তার অফিসিয়াল সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ছবির প্রথম দৃশ্য শেয়ার করে, সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন যুক্ত করেন যা ছবির মূল ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। পোস্টারটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
‘দ্য পারাডাইস’ ছবির দায়িত্বে আছেন পরিচালক শ্রীকান্ত ওডেলা, যিনি তার সাহসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের জন্য পরিচিত। এই চলচ্চিত্রটি বহুভাষিক রূপে তৈরি হচ্ছে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকের কাছে একসাথে পৌঁছানো যায়।
নানির ক্যারিয়ারের এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রচারণা হিসেবে এই প্রকল্পটি বিবেচিত, কারণ এটি একাধিক ভাষায় একসাথে মুক্তি পাবে এবং বিদেশি বাজারেও প্রচারিত হবে। এভাবে তিনি দক্ষিণ ভারতের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান।
পোস্টারে নানিকে একটি স্বপ্নময় পরিবেশে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে আলো ও ছায়ার খেলা ছবির থিম—আশা ও স্বর্গের অনুসন্ধান—কে ইঙ্গিত করে। এই ভিজ্যুয়াল উপাদানটি ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং ছবির গোপন কাহিনীর প্রতি কৌতূহল জাগায়।
ফ্যানরা দ্রুতই পোস্টারটি শেয়ার করে, বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য ও অনুমান প্রকাশ করে। শিল্পের অভ্যন্তরে এই পদক্ষেপকে ২০২৬ সালের সিনেমা ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রযোজনা দল ইতিমধ্যে শ্যুটিং কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক লোকেশন উভয়ই ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বহুমুখী শ্যুটিং পরিকল্পনা ছবির বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উচ্চ মানের ভিজ্যুয়াল নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
মার্চের শেষের দিকে মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে বড় বাজেটের ছবির জন্য উপযুক্ত সময়সীমা। এই সময়ে দর্শকের সিনেমা হলের উপস্থিতি বাড়ে, ফলে বক্স অফিসে ভাল পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা থাকে।
নানির নতুন বছরের প্রথম দিনে পোস্টার প্রকাশের সিদ্ধান্তটি একটি কৌশলগত মার্কেটিং পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষিত, যা বছরের শুরুতেই দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এভাবে তিনি বছরের প্রথম দিনেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে স্থাপন করেছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বহুভাষিক রিলিজ পদ্ধতি ছবির বক্স অফিস সম্ভাবনা বাড়াবে, বিশেষ করে সেই বাজারগুলোতে যেখানে ডাবড সংস্করণগুলো জনপ্রিয়। এই কৌশলটি আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর আয় নিশ্চিত করতে পারে।
‘দ্য পারাডাইস’ শিরোনামটি আদর্শ ও স্বর্গের অনুসন্ধানকে নির্দেশ করে, যদিও গল্পের বিশদ এখনো গোপন রাখা হয়েছে। পরবর্তী প্রচারমূলক উপকরণে কাহিনীর মূল দিকগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পাবে।
মুক্তির তারিখের নিকটবর্তী সময়ে টিজার, সাউন্ডট্র্যাক ও মিডিয়া ইন্টারভিউসহ বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশিত। এই সবই ছবির প্রত্যাশা বাড়াতে এবং দর্শকের আগ্রহ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
নানির ভক্তগোষ্ঠী ইতিমধ্যে অনলাইন ওয়াচ পার্টি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে পোস্টার লঞ্চের মুহূর্তটি একসাথে উপভোগ করা যায়। তার ডিজিটাল উপস্থিতি ও সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহার এই ধরনের উদ্যোগকে সহজতর করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নানির সফল ছবিগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, ‘দ্য পারাডাইস’ তার ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই ছবির মাধ্যমে তিনি আধুনিক তেলুগু সিনেমার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার অবস্থান আরও মজবুত করতে চান।
পোস্টারটি এখন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং দর্শকদের মধ্যে ছবির জন্য প্রত্যাশা বাড়ছে। নানির এই বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রকল্পটি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, যা পুরো ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



