বিপিএল নিলামের পর এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে, তবু মাহমুদউল্লাহর প্রথম প্রতিক্রিয়া এখনও জানার সুযোগ কম। নিলামের প্রথম দফায় তিনি ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ৩.৫ মিলিয়ন টাকার পারিশ্রমিকের তালিকায় ছিলেন, তবে কোনো দল তার নামের দিকে ঝুঁকেনি। একই ক্যাটেগরি থেকে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের ক্ষেত্রেও একই রকম অবস্থা দেখা গিয়েছিল।
নিলামের শেষ পর্যায়ে সব ক্যাটেগরির কোটা পূর্ণ না হওয়ায় দলগুলোকে যেকোনো ক্যাটেগরি থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম দফায় দল না পাওয়া খেলোয়াড়দের ক্যাটেগরি পরের ধাপে নামিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও ছিল, তবে রংপুর রাইডার্সের প্রতিনিধি ও বিসিবি পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক স্পষ্ট করে বলেন, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞদের ক্যাটেগরি নামানো হবে না।
এই নীতি অনুসরণ করে রংপুর রাইডার্স শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহকে তার ভিত্তিমূল্যেই নেয়, আর মুশফিকুর রহিমকে রাজশাহী রাইডার্সে স্থান দেয়। রাইডার্সে যোগদানের পর মাহমুদউল্লাহ তৃতীয় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৬ বলের মধ্যে ৩৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন এবং সিলেট টাইটান্সের বিরুদ্ধে দলকে জিতিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচের শিরোপা জিতেন।
ম্যাচের পর প্রেস কনফারেন্সে তিনি নিলামের শকড হওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, নিলামের সময়ে তিনি নিজে শকড বোধ করেন, কারণ গত দুই‑তিন বছরের পারফরম্যান্স গ্রাফে তার স্ট্রাইক রেট, গড় এবং রান সবই জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ের কাছাকাছি বা তার চেয়ে ভাল ছিল। তবু তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ইটস ফাইন” এবং নতুন সুযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মাহমুদউল্লাহর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। ফরচুন বরিশালের হয়ে তিনি শেষ তিনটি আসরে মোট ২০৬ রান করেছেন, গড় ৩৪.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৩.০৫। পূর্ববর্তী মৌসুমে তিনি ২৯.৬২ গড়ে ২৩৭ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৩৪.৬৫। তার আগের মৌসুমে গড় ২০.৮০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৭.৭৪ সহ ২০৮ রান করেছেন। এই পরিসংখ্যানগুলো তার ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
রাইডার্সে সুযোগ পেয়ে তিনি দল, মালিক, কোচ ও অধিনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “ইশতিয়াক ভাই ও রংপুর রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ধন্যবাদ, কারণ তারা আমাকে সুযোগ দিয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুরুর দিকে তাকে না নেওয়া সত্ত্বেও এখন তিনি দলের অংশ হিসেবে গর্বিত।
মাহমুদউল্লাহর এই অভিজ্ঞতা নতুন সিজনে তার ভূমিকা ও দায়িত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচে তিনি কীভাবে অবদান রাখবেন তা এখন সকলের নজরে, তবে তার বর্তমান ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস তাকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ করে তুলেছে।



