রংপুর রাইডার্স শুক্রবারের ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ৬ উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে ৩৪ রান চেজে ১৬ বলে জয়লাভ করে। এই জয়ে দলের ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহকে ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার দেওয়া হয়।
মাহমুদুল্লাহ এখন পর্যন্ত বাঙ্গালাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোট বারোবার ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা তামিম ইকবালের একাদশ পুরস্কারকে ছাড়িয়ে নতুন শীর্ষে পৌঁছেছে। তামিমের মোট ১১৮টি ম্যাচের পরিসংখ্যানের তুলনায় মাহমুদুল্লাহকে রেকর্ড অতিক্রম করতে অতিরিক্ত অঠারোটি ম্যাচের প্রয়োজন ছিল।
বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি শাকিব আল হাসানের হাতে, যিনি ১১৩টি ম্যাচে সতেরোবার এই সম্মান অর্জন করেছেন। শাকিবের পরের স্থান দখল করেছেন মাহমুদুল্লাহ, যিনি এখন পর্যন্ত ১২টি পুরস্কার পেয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুশফিকুর রহিম, যিনি ১৪৪টি ম্যাচে আটবার এই সম্মান পেয়েছেন।
লিটন কুমার দাস ও শেখ মেহেদি হাসান প্রত্যেকে চৌদ্দবার ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা তাদেরকে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রাখে। এছাড়া আটজন ক্রিকেটার—রাভি বোপারা, ক্রিস গেইল, লিটন কুমার দাস, শেখ মেহেদি হাসান, ডেভিড মিলার, মেহেদি হাসান মিরাজ, আন্দ্রে রাসেল ও শাহিদ খান আফ্রিদি—প্রতিটি সাতবার এই সম্মান অর্জন করেছেন।
মাহমুদুল্লাহয়ের এই সাফল্য তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেও প্রতিফলিত হয়েছে; তিনি এখন পর্যন্ত মোট চব্বিশবার ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রাখে। তামিমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে তিনি ২৩ বার ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, তবে এখন তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন।
একই দিনে শাকিব আল হাসানও ইন্ডিয়ান লিগ টি-টোয়েন্টিতে ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার পেয়ে তার মোট ৪৬তম টি-টোয়েন্টি ম্যান অব দা স্বীকৃতি অর্জন করেন। মুশফিকুর রহিমের ১৭টি, লিটন ও শেখের প্রত্যেকের ১৪টি পুরস্কারও উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের অংশ।
বিপিএল সিজনের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রাইডার্সের শিডিউল এখনও নির্ধারিত, তবে এই জয় এবং মাহমুদুল্লাহয়ের রেকর্ড ভাঙা দলকে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করবে। তামিমের রেকর্ডের পরেও তার পারফরম্যান্সে কোনো অবনতি দেখা যায়নি, এবং তিনি ভবিষ্যতে আবার শীর্ষে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
মাহমুদুল্লাহয়ের এই মাইলফলক তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের প্রতীক, যা তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রমাণ। তামিম, শাকিব, মুশফিক এবং অন্যান্য খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা বাংলাদেশি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্সাহকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



