খুলনা-৫ আসন থেকে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক জামায়াত‑ই‑ইসলামি সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পোরওয়ার তার নির্বাচনী অফিডেভিটে মোট সম্পদের মূল্য বর্তমান বাজারে ১.১৪ কোটি টাকার বেশি বলে প্রকাশ করেছেন। ৬৭ বছর বয়সী পোরওয়ার, যিনি হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেছেন, এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অফিডেভিটে দেখা যায়, পোরওয়ার তার প্রধান আয় হিসেবে ব্যবসা থেকে বার্ষিক প্রায় ৪,৬৭,৫০০ টাকা উপার্জন করেন। পূর্বে তিনি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো আয় সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
সম্পদের তালিকায় তিনি অ-কৃষি জমি ও ভবনের মালিক, যার বর্তমান বাজারমূল্য এক কোটি টাকার কাছাকাছি, যদিও ক্রয়কালে এই সম্পদের মূল্য ছিল ২২.৭২ লাখ টাকা। এই পার্থক্য সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
নগদ অর্থের ক্ষেত্রে পোরওয়ার ৫.৯০ লাখ টাকা হাতে রাখেন, আর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৭.২৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া তিনি ইলেকট্রনিক সামগ্রীতে ৮০,৬৫০ টাকা এবং আসবাবে ১.১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
চলমান সম্পদের মোট ক্রয়মূল্য প্রায় ১৫.০৫ লাখ টাকা, যার বর্তমান অনুমানমূল্য প্রায় ১৪.০৯ লাখ টাকা। এই হিসাবের ভিত্তিতে তার মোট সম্পদ ১.১৪ কোটি টাকার উপরে পৌঁছেছে।
পোরওয়ারের স্ত্রী কামরুন নাহার সলমা গৃহিণী, এবং তার নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৩,৩৩০ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার নগদ অর্থ ২,৬৭৫ টাকা, ব্যাংক জমা ৪,৩৪৫ টাকা।
স্ত্রীর চলমান সম্পদের মধ্যে ১৫ ভোরি সোনার মূল্য ক্রয়কালে ৫২,০২০ টাকা, তবে বর্তমান বাজারে তা প্রায় ২২.৫৭ লাখ টাকার সমান। এই সোনার মূল্যবৃদ্ধি তার পারিবারিক সম্পদের মোট মূল্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।
অফিডেভিটে পোরওয়ার উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে মোট ৪৮টি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে, তবে সবগুলোই তিনি মুক্তি পেয়েছেন বা বাদ পড়েছেন। এই তথ্য তার আইনি অবস্থার স্বচ্ছতা নির্দেশ করে।
বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে তিনি ৪,৮২,৪৭৮ টাকা আয় রিপোর্ট করেছেন এবং ৫,৬২৫ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। জমা করা কর রিটার্নে মোট সম্পদ প্রায় ৩৭.৮১ লাখ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোরওয়ার ২০০১ সালে বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন চার পার্টি জোটের ত্রৈমাসিকের প্রার্থী হিসেবে খুলনা‑৫ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনী সাফল্য তার বর্তমান প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার সম্পদ ঘোষণাকে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, বিশেষ করে সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধি ও সোনার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে পোরওয়ারের দল এই তথ্যকে স্বচ্ছতা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সম্পদ ঘোষণার প্রকাশ পোরওয়ার ও তার দলকে ভোটারদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা প্রদর্শনের সুযোগ দেবে, একইসঙ্গে প্রতিপক্ষের জন্য সমালোচনার ক্ষেত্র তৈরি করবে। ভবিষ্যতে এই তথ্যের প্রভাব ভোটের প্রবণতা ও রাজনৈতিক গঠনে কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা সময়ই বলবে।



