মেক্সিকোর দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে শুক্রবার সন্ধ্যায় 6.5 মাত্রার ভূকম্পন ঘটেছে, যার ফলে দুইজনের মৃত্যু এবং একাধিকের আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময়ে প্রথম সতর্কতা পাওয়া মাত্রই নাগরিক ও পর্যটকরা রাস্তার দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। সরকার জরুরি অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
ভূকম্পনের কেন্দ্রবিন্দু গুয়েরেরো রাজ্যের জনপ্রিয় পর্যটন শহর আকাপুলকোর নিকটবর্তী সান মারকোস এলাকায় ছিল। ভূতাত্ত্বিক সংস্থা এই ভূকম্পনকে 6.5 মাত্রার শক্তিশালী ধরা দিয়েছে এবং তা অঞ্চলের ভূমিকম্পীয় ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে গণ্য করা হচ্ছে।
গুয়েরেরো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইভেলিন স্যালগাদো জানান, ৫০ বছর বয়সী এক নারী এই ভূকম্পনে প্রাণ হারিয়েছেন। মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং মোট ১২ জনের আহত হওয়ার রিপোর্ট দিয়েছেন।
ভূকম্পনের পরপরই অতিরিক্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। মেয়র ব্রুগাদা জনগণকে শান্ত থাকতে এবং জরুরি ব্যাকপ্যাক প্রস্তুত রাখতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই ব্যাকপ্যাকে মৌলিক বেঁচে থাকার সামগ্রী থাকা উচিত।
জরুরি ব্যাকপ্যাকে টর্চ, রেডিও, পানির বোতল, নষ্ট না হওয়া খাবার, উষ্ণ পোশাক এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের কপি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কেন্দ্রের নির্দেশে এই ব্যাকপ্যাকটি প্রথম ঘণ্টার মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়।
ব্রুগাদা জানান, ভূকম্পনের ফলে সম্ভাব্য ধসের ঝুঁকিতে থাকা দুইটি ভবন বর্তমানে মূল্যায়নের অধীনে রয়েছে। এছাড়া, ৩৪টি ভবন এবং ৫টি বাড়ি নিরাপত্তা পরীক্ষা চালু করা হয়েছে, যাতে কোনো কাঠামোগত ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
মেক্সিকোর সিসমিক অ্যালার্ম সিস্টেমের সতর্কতা শোনার সঙ্গে সঙ্গে মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর রাস্তায় মানুষ দ্রুত বেরিয়ে আসে। এই সিস্টেমটি ১৯৮৫ সালের বিধ্বংসী ভূকম্পনের পর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ১০,০০০েরও বেশি প্রাণহানি ঘটিয়েছিল।
সেই দিন প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম, যিনি ভূকম্পনের সময় সরাসরি মঞ্চে ছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ ক্যামেরার সামনে বললেন, “কম্পন হচ্ছে,” এবং সবার নিরাপদে বেরিয়ে আসার জন্য শান্তভাবে চলার নির্দেশ দেন।
ভিডিও রেকর্ডে দেখা যায়, মেক্সিকো সিটিতে ভবনগুলো নড়ছে, আর আকাপুলকোর রাস্তায় গাড়িগুলো কম্পনের ফলে কাঁপছে। এই দৃশ্যগুলো ভূকম্পনের তীব্রতা ও তার প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
মেক্সিকো বিশ্বে সবচেয়ে ভূকম্পনপ্রবণ দেশগুলোর একটি, যেখানে নিয়মিতভাবে মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূকম্পন ঘটে। ২০১৭ সালে ৭.১ মাত্রার একটি ভূকম্পন ২০০েরও বেশি মানুষকে প্রাণ হারাতে বাধ্য করেছিল এবং বহু ভবন ধসে পড়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিসমিক সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ধরণের ভূকম্পনের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর কাজ অব্যাহত থাকবে।



