অনেকের জন্য ক্রিসমাসের ছুটির শেষ সপ্তাহান্ত কাজের পুনরারম্ভের প্রস্তুতি গঠন করে। অফিসের দরজা বন্ধ থাকলেও মন ইতিমধ্যে সোমবারের দায়িত্বের দিকে ঝুঁকে থাকে। দীর্ঘ রাত, পারিবারিক সময় এবং ধীর গতির ছুটির পর রুটিনে ফিরে আসা স্বাভাবিকভাবে অনিচ্ছা ও ক্লান্তি জাগিয়ে তুলতে পারে। এই অনুভূতি কাজের প্রতি অমনের না থাকা থেকে নয়, বরং মানসিক সমন্বয়ের প্রয়োজন থেকে উদ্ভূত হয়।
মনোবিদ ও কর্মক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, এই ধরনের উদ্বেগের মূল কারণ হল মনোভাবের পরিবর্তন, অনুপ্রেরণার অভাব নয়। সপ্তাহান্তের শেষ দিন, বিশেষ করে রবিবার, মস্তিষ্কে ভবিষ্যৎ কাজের চাপের পূর্বাভাস তৈরি করে এবং অপ্রয়োজনীয় স্ট্রেস রেসপন্স সক্রিয় করে। এই প্রক্রিয়াকে “অ্যান্টিসিপেটরি স্ট্রেস” বলা হয়, যা রবিবারের সন্ধ্যায় অস্বস্তি বাড়ায়।
এই স্ট্রেস কমাতে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হল সপ্তাহান্ত এবং কাজের সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে সংযোগ তৈরি করা। শেষ দিনটি হঠাৎ বন্ধ করে না, বরং কিছুটা কাজের রিদমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকলাপের মাধ্যমে মনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। উদাহরণস্বরূপ, রবিবারের বিকেলে হালকা ব্যায়াম, বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা সৃজনশীল কোনো কাজ করা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং কাজের দিকে মনোযোগ সরাতে সাহায্য করে।
যদি সম্পূর্ণভাবে বিশ্রাম নেওয়া কঠিন মনে হয়, তবে এমন কোনো কাজ বেছে নিন যা মনোযোগের পূর্ণ ব্যবহার দাবি করে। দৌড়, সাইকেল চালানো, রান্না বা চিত্রাঙ্কন—যে কোনো শারীরিক বা সৃজনশীল কার্যকলাপ মনকে বর্তমান মুহূর্তে স্থাপন করে। এভাবে সপ্তাহান্তের শেষ দিনটি স্বাভাবিকভাবে কাজের মোডের দিকে পরিবর্তিত হয়।
ছোট এবং পরিচিত রুটিন যোগ করাও মানসিক বিশৃঙ্খলা কমাতে সহায়ক। সংক্ষিপ্ত হাঁটা, গরম শাওয়ার নেওয়া, অথবা পরের দিনের কাজের পোশাক আগে থেকেই প্রস্তুত করা—এইসব সহজ অভ্যাস মস্তিষ্ককে সিগন্যাল দেয় যে দিনটি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে যখন মন একাধিক চিন্তায় বিভক্ত থাকে, এই রুটিনগুলো স্থিতিশীলতা আনে।
রবিবার রাতে যদি উদ্বেগের ভাবনা ঘুমে বাধা দেয়, তবে “থট ডাউনলোড” নামের পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে কাজের তালিকা, উদ্বেগ বা সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো কাগজে লিখে ফেললে মনের অপ্রয়োজনীয় লুপ ভাঙে। লিখে ফেলা তথ্যগুলো মস্তিষ্কের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে এবং মানসিক ভার কমায়।
লিখিত তালিকা মস্তিষ্ককে জানায় যে কাজগুলো ইতিমধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে, ফলে ঘুমের সময় অতিরিক্ত চিন্তা কমে। ফলস্বরূপ, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং পরের দিন কাজের জন্য তাজা মন নিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। এই সহজ কৌশলটি ঘুমের আগে ৫-১০ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন করা সর্বোত্তম।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রবিবারের উদ্বেগ সোমবারের সকাল পর্যন্ত বাড়তে থাকে, যা প্রায়শই কাজের অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে। দীর্ঘ ছুটির পর কাজের পরিমাণ বাড়লে প্রেরণা কমে এবং মানসিক চাপ বাড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
প্রথমে সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা উচিত। বড় প্রকল্পকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে প্রতিদিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করলে কাজের ভয় কমে এবং অর্জনের অনুভূতি বাড়ে। এছাড়া, কাজের সময় বিরতি নেওয়া এবং স্বল্প সময়ের বিশ্রাম নেওয়া উৎপাদনশীলতা বজায় রাখে।
অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে কাজের সময়সূচি বাস্তবসম্মতভাবে সাজানো দরকার। সপ্তাহের প্রথম দিনগুলোতে সহজ কাজ রাখলে মনের চাপ হ্রাস পায় এবং ধীরে ধীরে জটিল কাজের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। এই পদ্ধতি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখে।
সামগ্রিকভাবে, ছুটির পর কাজের উদ্বেগ কমাতে মানসিক প্রস্তুতি, সুনির্দিষ্ট রুটিন এবং কাজের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই বড় পার্থক্য তৈরি করে, যা কর্মদিবসকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে তুলবে। আপনার রবিবারের শেষ ঘণ্টা কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে একবার ভাবুন এবং নিজে জন্য সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি বেছে নিন।
আপনি কি ইতিমধ্যে কোনো রুটিন গড়ে তুলেছেন, নাকি নতুন কোনো কৌশল চেষ্টা করতে চান? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, যাতে অন্যদেরও সহায়তা করা যায়।



