অস্কার জয়ী সঙ্গীতশিল্পী স্টিফেন শোয়ার্টজ, যিনি ‘উইকেড’ ও ‘গডস্পেল’ এর সুরকার হিসেবে পরিচিত, ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার কেনেডি সেন্টারকে আর না দেখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখন এই প্রতিষ্ঠান আর স্বাধীন শিল্প প্রকাশের নিরপেক্ষ স্থান নয় এবং তার রাজনৈতিক ঝুঁকি তাকে দূরে সরিয়ে দেয়।
ওয়াশিংটন ডি.সির জে.এফ. কেনেডি পারফরমিং আর্টস সেন্টার, সম্প্রতি নাম পরিবর্তন সত্ত্বেও, সাদা ঘরে সাদা ঘরে শোয়াচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের আশ্বাসের বিপরীতে, শিল্পী ও সংগঠনগুলোর বুকিং হ্রাসের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রকাশ পায়।
শোয়ার্টজের বয়কটের মূল কারণ তিনি কেন্দ্রের ‘অ-রাজনৈতিক’ স্বভাবের ক্ষয়। তার সহকারীকে পাঠানো ইমেইলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন এমন কোনো পরিবেশ নেই যেখানে শিল্প স্বাধীনভাবে প্রকাশ পেতে পারে। তাই তিনি ভবিষ্যতে সেখানে কোনো পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করেন।
শোয়ার্টজের পূর্বে পরিকল্পিত অনুষ্ঠান ছিল মে ১৬, ২০২৬ তারিখে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা গালা, যা তিনি হোস্ট করতে যাচ্ছিলেন। তবে তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কোনো নিশ্চিতকরণ পাননি, ফলে অনুষ্ঠানটি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
কেনেডি সেন্টারের জনসংযোগ উপ-সভাপতি রোমা দারাভি এই বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে জানান, শোয়ার্টজের সঙ্গে কোনো চুক্তি কখনোই সম্পন্ন হয়নি এবং তার বয়কটের খবর ভুল। তিনি উল্লেখ করেন, শোয়ার্টজ নিজেই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কোনো আপডেট পাননি বলে ধারণা করেন।
শোয়ার্টজের সিদ্ধান্তের পর থেকে অন্যান্য শিল্পীও কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এই প্রবণতা ট্রাম্পের নেতৃত্বে কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর তীব্রতর হয়েছে।
২০২৪ সালে ট্রাম্পের অধীনে পরিচালনা পর্ষদে মাগা সমর্থকদের অন্তর্ভুক্তি করা হয়, যা কেন্দ্রের ঐতিহ্যবাহী দ্বিপাক্ষিক নীতিকে বদলে দেয়। এই পরিবর্তন শিল্প জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পরিবর্তিত পর্ষদে ট্রাম্পকে চেয়ারম্যানের পদে নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি প্রথম বসে থাকা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডিসেম্বর মাসে কেনেডি সেন্টার অনার্স অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্রের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শোয়ার্টজের ইমেইলে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে পরিচালক ফ্রান্সেসকা জ্যামবেলো তাকে মে ১৬, ২০২৬ তারিখের অপেরা ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে এরপর থেকে কোনো যোগাযোগ না পাওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানটি বাতিলের দিকে ঝুঁকছেন।
বয়কটের তালিকায় যোগদানকারী শিল্পীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেনেডি সেন্টারের প্রোগ্রামিংয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এই পরিস্থিতি শিল্পের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দেন, যদি কেন্দ্রের রাজনৈতিক সংযুক্তি অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শিল্পী এই প্রতিষ্ঠানের থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। এ ধরনের প্রবণতা দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



