22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅ্যান্টি-করাপশন কমিশন প্রথমবারের মতো প্রার্থীদের অ্যাফিডেভিট পর্যালোচনা করবে

অ্যান্টি-করাপশন কমিশন প্রথমবারের মতো প্রার্থীদের অ্যাফিডেভিট পর্যালোচনা করবে

অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (ACC) দেশের সাধারণ নির্বাচনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া সম্পদ‑দায়ের বিবরণী (অ্যাফিডেভিট) প্রথমবারের মতো বিশদভাবে পরীক্ষা করবে, যাতে ঘোষিত সম্পদ‑দায়ের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ সম্পদ সঞ্চয় রোধ করা।

অ্যাফিডেভিটে প্রার্থীর নিজস্ব সম্পদ‑দায়ের পাশাপাশি তার নির্ভরশীলদের দেশীয় ও বিদেশী সম্পদও অন্তর্ভুক্ত থাকে। পূর্বে এই ঘোষণাগুলোকে কেবল রুটিন কাগজপত্র হিসেবে দেখা হতো, এবং প্রায়ই কোনো প্রশ্ন তোলা হতো না।

এখন ACC এই নথিগুলোকে জবাবদিহিতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি পার্লামেন্টে গৃহীত প্রতিনিধি আইন (RPO) সংশোধনী, যা নির্বাচন কমিশনের (EC) ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রার্থীর মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে EC-কে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রদান করা হয়েছে।

সংশোধিত আইনের অধীনে, যদি কোনো প্রার্থী তার অ্যাফিডেভিটে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে নির্বাচনের পরেও তার প্রার্থীতা বাতিল করা সম্ভব। পাঁচ বছরের মেয়াদে যেকোনো সময় এই তথ্য প্রকাশিত হলে, EC শুনানি পরিচালনা করে সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ACC-র মুখপাত্র ও ডিরেক্টর জেনারেল (প্রিভেনশন) আকতার হোসেন জানান, কমিশন ইতিমধ্যে প্রার্থীদের জমা করা অ্যাফিডেভিটের পর্যালোচনা শুরু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো নথিতে ভুল বা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে ACC-র আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ACC-র গোয়েন্দা বিভাগও এই বিষয়টি নজরে রেখেছে এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রার্থীদের অ্যাফিডেভিট সংক্রান্ত খবরগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এভাবে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য একাধিক স্তরের তদারকি চালু করা হয়েছে।

মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সম্পদ‑দায়ের অমিলের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ACC আইন ২০০৪ এর ধারা ২৭(১) অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি তার ঘোষিত আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পদ রাখে, তবে তাকে আদালতে তার সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে হবে।

এই ধারা লঙ্ঘন করলে তিন থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তি সহ শাস্তি আরোপিত হতে পারে। তাই প্রার্থীদের জন্য সম্পদ‑দায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন EC কর্মকর্তা জানান, ACC থেকে প্রাপ্ত কোনো সুপারিশের ক্ষেত্রে কমিশন প্রথমে তার আইনি ভিত্তি, অভিযোগের প্রকৃতি এবং আইনগত পরিধি যাচাই করবে। এরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

তবে EC স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা ACC-র সুপারিশকে স্বাধীনভাবে বিবেচনা করবে এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। এই অবস্থান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

ACC এবং EC-র এই সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে প্রার্থীদের আর্থিক তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে এবং অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগকে বহু বিশ্লেষক ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments