অ্যান্ড্রে ওভ্রেডালের পরবর্তী হরর প্রকল্পের শিরোনাম ও মুক্তির তারিখ পারামাউন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নাম “প্যাসেঞ্জার” এবং এটি গ্রীষ্মের মাঝামাঝি, ২৯ মে, থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে। প্রধান ভূমিকায় জ্যাকব স্কিপিও, লু লোবেল এবং মেলিসা লিও অভিনয় করবেন, তবে গল্পের বিশদ এখনো গোপন রাখা হয়েছে।
শিরোনাম ও মুক্তির তারিখের ঘোষণা পারামাউন্টের অফিসিয়াল প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয়। “প্যাসেঞ্জার” নামটি চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় থিমের ইঙ্গিত দেয়, তবে নির্মাতারা এখনো কাহিনীর মূল বিষয় প্রকাশ করেননি। এই গোপনীয়তা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কাস্টের ক্ষেত্রে, জ্যাকব স্কিপিওকে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে, যিনি পূর্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করেছেন। লু লোবেল, যিনি ইউরোপীয় টেলিভিশন সিরিজে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। মেলিসা লিও, হলিউডের অভিজ্ঞ অভিনেত্রী, তার উপস্থিতি চলচ্চিত্রের আকর্ষণ বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
গল্পের বিবরণ এখনো প্রকাশিত না হলেও, নির্মাতারা এটিকে শুদ্ধ হরর হিসেবে উপস্থাপন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই দর্শকরা অন্ধকারময় পরিবেশ, অপ্রত্যাশিত মোড় এবং তীব্র সাসপেন্সের প্রত্যাশা করতে পারেন।
প্রযোজনার দায়িত্বে আছেন ওয়াল্টার হামাদা, যিনি ১৮হার্টজের মাধ্যমে প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করছেন। গ্যারি ডবারম্যান এবং তার “কয়েন অপারেটেড” ব্যানারও এই ছবির উৎপাদনে যুক্ত। উভয় প্রযোজকই হরর ঘরানায় সফল কাজের রেকর্ড রাখেন, যা চলচ্চিত্রের গুণগত মানের আশ্বাস দেয়।
ওয়াল্টার হামাদা, পারামাউন্টের হরর বিভাগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, পূর্বে বহু সফল হরর প্রকল্পে কাজ করেছেন। তার নেতৃত্বে তৈরি হওয়া ছবিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে ভাল সাড়া পেয়েছে, যা “প্যাসেঞ্জার”কে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে শক্তিশালী করে তুলবে।
অ্যান্ড্রে ওভ্রেডাল, নরওয়েজিয়ান পরিচালক, সাম্প্রতিক সময়ে “দ্য লাস্ট ভয়েজ অফ দ্য ডেমেটার” পরিচালনা করে ড্রাকুলা কিংবদন্তির নতুন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। এই ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েও বক্স অফিসে ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
ওভ্রেডালের পূর্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ হল “স্কেরি স্টোরিজ টু টেল ইন দ্য ডার্ক”, যা গিলার্মো ডেল টোরোর প্রযোজনায় তৈরি হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি ভয়াবহ গল্পের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও সাউন্ড ডিজাইনের জন্য প্রশংসিত হয়েছে, এবং হরর ঘরানার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
মে মাসে “প্যাসেঞ্জার”ের মুক্তি পারামাউন্টের শিডিউলে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে। একই সময়ে, ডিজনি ও লুকাসফিল্মের “দ্য মান্ডালোরিয়ান ও গ্রোগু” ২২ মে থিয়েটারে আসবে, আর “মাস্টার্স অফ দ্য ইউনিভার্স” ৫ জুন মুক্তি পাবে। এই তিনটি ছবি গ্রীষ্মের প্রথম সপ্তাহে দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় বিকল্প তৈরি করবে।
প্রতিযোগিতামূলক শিডিউল সত্ত্বেও, “প্যাসেঞ্জার” তার নিজস্ব ভয়াবহতা ও গল্পের গোপনীয়তা দিয়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হরর প্রেমিকরা নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে এই ছবিটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।
অন্যদিকে, পারামাউন্ট ও হামাদা “প্রাইমেট” নামের আরেকটি হরর প্রকল্পের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ছবিটি জানুয়ারি ৯ তারিখে থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে এবং একটি পোষা চিম্পান্জির অপ্রত্যাশিত ঘটনার উপর ভিত্তি করে।
“প্রাইমেট”ের কাহিনী একটি সাধারণ পোষা প্রাণীর অপ্রত্যাশিত রূপান্তরকে কেন্দ্র করে, যা দর্শকদের মধ্যে অস্বস্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। হরর ঘরানার ভক্তরা জানুয়ারি মাসে এই নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, অ্যান্ড্রে ওভ্রেডালের “প্যাসেঞ্জার” গ্রীষ্মের হরর শিডিউলে একটি তাজা বাতাস নিয়ে আসবে। নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সমন্বয়, পাশাপাশি অভিজ্ঞ প্রযোজকদের সমর্থন, ছবিটিকে বাণিজ্যিক ও শিল্পগত দৃষ্টিকোণ থেকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।
হরর প্রেমিক ও সিনেমা দর্শকরা মে মাসের শেষের দিকে থিয়েটারে এই নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন, এবং একই সময়ে জানুয়ারিতে “প্রাইমেট”ের মাধ্যমে হররের নতুন দিক অন্বেষণ করতে পারবেন।



