শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটায় খুলনা‑সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া পল্লীর বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের সামনে একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও একটি যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে দুই ভ্যান যাত্রীর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে ভ্যান চালকসহ তিনজন গায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অ্যাম্বুলেন্সটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ বহন করে সাতক্ষীরার দিকে যাচ্ছিল। রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চলার ফলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি ভ্যানের সাথে ধাক্কা খায়।
ধাক্কা লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে ভ্যান চালক এবং তিনজন যাত্রী অন্তর্ভুক্ত, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত দুই ভ্যান যাত্রী হলেন কালিপদ মণ্ডল এবং ইলিয়াস সরদার, যারা আহত হওয়ার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি সেবায় ভর্তি হন। চিকিৎসা সত্ত্বেও উভয়েরই শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়; শেষ পর্যন্ত তারা একই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
হাইওয়ে পুলিশ অনুসারে, দুর্ঘটনা ঘটার সময় রাস্তায় গতি সীমা অতিক্রম করা হচ্ছিল। গুটুদিয়া পল্লীর বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের সামনে গাড়ি দুটির সংঘর্ষ ঘটায়, ফলে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি সেবা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আহত পাঁচজনকে দ্রুত ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খর্নিয়া হাইওয়ে থানার ওসির মতে, দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চালকের পালিয়ে যাওয়া বিষয়টি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অ্যাম্বুলেন্সের চালকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে পুলিশ তাকে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া সিভিল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চালকের সনাক্তকরণে অগ্রগতি করা হবে।
মৃতদেহগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত হয়েছে, যেখানে পরিবারকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য জানানো হবে। মৃতদেহের হস্তান্তর ও দাফন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আইন অনুসারে সম্পন্ন হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, রাস্তায় বেপরোয়া গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘটিত এই দুর্ঘটনা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ধারা অনুযায়ী চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায় আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরা সাহায্য করায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালীন সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ধরনের ট্রাফিক দুর্ঘটনা রাস্তায় নিরাপদ গতি ও নিয়ম মেনে চলার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে রোড সিগন্যাল ও গতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
পরবর্তী পর্যায়ে ফরেনসিক দল দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন করবে, গাড়ির ব্রেক সিস্টেম ও গতি রেকর্ড পরীক্ষা করবে এবং সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করবে। তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে শাস্তি নির্ধারিত হবে।



