জাতীয় সরঞ্জাম পরিচয় রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমের প্রথম ধাপ চালু হওয়ার পরও, পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা মোবাইল ফোন বন্ধ করা হবে না, এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ফেসবুকে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে নাগরিকদের প্যানিক না করে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করা দরকার।
NEIR প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর সঙ্গে যুক্ত মোবাইল সিম ও ডিভাইসের তথ্য একত্রে সংরক্ষণ করা, যাতে অবৈধ ব্যবহার দ্রুত সনাক্ত করা যায়। সিস্টেমটি ১৬ ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তিন বিলিয়নের বেশি ডেটা রেকর্ড করা হয়েছে।
তৈয়্যবের মতে, NEIR চালুর পরের নব্বই দিন পর্যন্ত কোনো ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হবে না। এই সময়ে অপারেটরদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক ডেটা এবং বর্তমান সক্রিয় ডিভাইসের তথ্য সিস্টেমে আপলোড করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে শুধুমাত্র সক্রিয় হ্যান্ডসেটের সংখ্যা প্রদর্শিত হয়।
অপারেটরদের সরবরাহকৃত ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে একটি NID এর বিপরীতে একাধিক সিম ও ডিভাইস রেজিস্টার হয়েছে। এর প্রধান কারণ হল পূর্বে একজন নাগরিকের এক NID এর অধীনে সর্বোচ্চ ২০টি সিম ব্যবহার করা অনুমোদিত ছিল, পরে তা ১৫টি এবং এখন ১০টি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে ঐতিহাসিক রেকর্ডে বেশি সংখ্যক ডিভাইস দেখা স্বাভাবিক।
প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দিক থেকে কিছু ত্রুটি স্বীকার করা হয়েছে। বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরগুলো একসাথে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কাজ করছে। ঐতিহাসিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করা হবে এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীর কাছে শুধুমাত্র বর্তমান সক্রিয় ডিভাইসের সংখ্যা প্রদর্শিত হবে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগবে, তবে ধীরে ধীরে সিস্টেমের নির্ভুলতা বাড়বে।
ফয়েজ আহমদ উল্লেখ করেন, NEIR এর মাধ্যমে নাগরিকদের অনলাইন স্ক্যাম ও আর্থিক অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। সিস্টেমের তথ্য ব্যবহার করে কেউ জানতে পারবে তার NID এর বিপরীতে কতটি সিম নিবন্ধিত হয়েছে এবং সেই সিমের সঙ্গে কতটি ডিভাইস যুক্ত আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত কোনো অবৈধ লেনদেন ঘটছে কিনা তা সনাক্ত করা সহজ হবে।
সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, NEIR নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত সিম ও ডিভাইসের তালিকা জানার অধিকার রাখে, যা তাকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। সরকার এই তথ্যকে স্বচ্ছভাবে প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে চায়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, NEIR সিস্টেমের সফলতা নির্ভর করবে ডেটার সঠিকতা ও সময়মতো আপডেটের ওপর। বর্তমানে অপারেটরগুলো থেকে প্রাপ্ত ডেটা প্রায় তিন বিলিয়ন রেকর্ডের বেশি, যা বিশাল পরিমাণের তথ্য পরিচালনা করতে উচ্চমানের সার্ভার ও অ্যালগরিদমের প্রয়োজন।
অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের কাজটি ৯০ দিনের পর ধীরে ধীরে শুরু হবে। প্রথম ধাপে শুধুমাত্র স্পষ্টভাবে ক্লোন করা বা চুরি হওয়া ডিভাইসগুলোকে লক্ষ্য করা হবে, এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য অননুমোদিত ডিভাইসের তালিকাও আপডেট করা হবে। এই পদ্ধতি নাগরিকের দৈনন্দিন ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় বাধা না দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ফয়েজ আহমদ শেষ কথা বলেন, “আমরা অপারেটরদের কাছ থেকে বিশাল পরিমাণ ডেটা পেয়েছি এবং এখন তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে সিস্টেমে আপলোড করছি। অনুগ্রহ করে সবাই প্যানিক না হয়ে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন।” তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে NEIR এর মাধ্যমে মোবাইল জগতের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, NEIR সিস্টেমের প্রথম ৯০ দিন তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে ব্যয় হবে, তবে এই সময়ের পর অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধের কাজ শুরু হবে। নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা এই উদ্যোগের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।



