দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ড টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ খেলোয়াড়ের দল চূড়ান্ত করে প্রকাশ করেছে। এই টুর্নামেন্টটি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে এবং দলটির অধিনায়ক হিসেবে Aiden Markram পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
স্কোয়াডের পেস বিভাগে ছয়জন বোলার রয়েছে। Kagiso Rabada চোটের পর প্রায় দশ সপ্তাহের বিরতির পরে ফিরে এসেছেন, আর তার সঙ্গে Anrich Nortje, Marco Jansen, Kobin Bosh, Lungi Ngidi এবং Quenna Maphaka রয়েছে। এই ছয়জনই দলের গতি ও আঘাতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
দলটির মধ্যে সাতজন খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেবে। পেসার Bosh ও Maphaka, ব্যাটসম্যান Devon Bravos, Tony de George এবং Jason Smith এই নবাগতদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অলরাউন্ডার George Linde এবং Donavan Ferreira-ও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে রয়েছে ওপেনার Quinton de Kock, যিনি গত অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন। অতিরিক্তভাবে David Miller, বামহাতি স্পিনার Keshav Maharaj, এবং পূর্বে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া পেসার Marco Jansen ও Anrich Nortje স্কোয়াডে নিশ্চিত স্থান পেয়েছেন।
২০২৪ টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো সাতজন খেলোয়াড়ের নামও এই তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা দলের ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কিছু পরিচিত মুখ স্কোয়াডে নেই। Heinrich Klaasen আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। Riza Hendricks, Ryan Rickelton, Tristan Stubbs, Ottojeel Barton, Gerald Coetzee এবং Tabraiz Shamsi-কে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই আটজন বর্তমানে বিভিন্ন টি‑টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন; তাদের মধ্যে সাতজন দক্ষিণ আফ্রিকান টি‑টোয়েন্টি লিগে, আর Shamsi আইএল টি‑টোয়েন্টি এবং ভবিষ্যতে বিগ ব্যাশে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডি জর্জির নির্বাচন বেশ চমকপ্রদ। যদিও তিনি বর্তমানে চোটের কারণে মাঠে উপস্থিত নন, তার এশিয়ায় কার্যকর ব্যাটিং রেকর্ড তাকে দলে রাখার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি টেস্ট ও ওয়ানডেতে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন, যার মধ্যে দুইটি এশিয়ায় অর্জিত। তবু আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টিতে মাত্র দুইটি ম্যাচে ৪০ রান করেছেন।
Jason Smith-এর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সীমিত; তিনি মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। তবে নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকান টি‑টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে ১৯ বলে ৬৮ রান করে তার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। তিনি টপ অর্ডারে ব্যাট করতে সক্ষম এবং মিডিয়াম পেসও দিতে পারেন, যা দলের ব্যাটিং গভীরতায় সহায়তা করবে।
স্পিন বিভাগে বামহাতি স্পিনার Keshav Maharaj এবং অলরাউন্ডার George Linde দলের প্রধান বিকল্প। অফ‑স্পিনের বিকল্প হিসেবে অধিনা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, যিনি প্রয়োজনীয় সময়ে অতিরিক্ত ঘূর্ণন সরবরাহ করতে সক্ষম।
সামগ্রিকভাবে, স্কোয়াডটি অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও নবাগতদের সমন্বয়ে গঠিত, যা দলের পারফরম্যান্সে নতুন উদ্যম ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে। কোচিং স্টাফের লক্ষ্য হল এই মিশ্রণকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের কঠিন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করা।
দক্ষিণ আফ্রিকান দল এখন প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে এবং শ্রীলঙ্কা ও ভারতের শর্তে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য প্রশিক্ষণ সেশন ও অভ্যন্তরীণ ম্যাচ চালিয়ে যাচ্ছে।



