ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) একাধিক সক্রিয় সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, এই বিষয়টি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হওয়ার পরও তাত্ক্ষণিকভাবে সমাধান হবে না এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মতে, অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটা সেট সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ঐতিহাসিক রেকর্ডও অন্তর্ভুক্ত। ডেটা মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমান তারিখে সেট করা থাকায় অনেক এনআইডিতে একাধিক সক্রিয় সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ে ভয় না পেতে এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে সময়ের প্রয়োজন।
বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা একসাথে কাজ করে ঐতিহাসিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে সংরক্ষণ করবে এবং শুধুমাত্র বর্তমানে সক্রিয় হ্যান্ডসেটের সংখ্যা প্রদর্শন করবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য কিছু সময় লাগবে, তবে ধীরে ধীরে সিস্টেমটি আপডেট হবে। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেন, এনইআইআর সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সনাক্ত করে সংশোধনের জন্য জনগণের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে, প্রাথমিক পর্যায়ে টেকনিক্যাল প্ল্যাটফর্মে জটিল ইস্যু দেখা দিতে পারে, তবে সেগুলো সমাধান করা হবে। ডেটাবেসের নিরাপত্তা বাড়াতে ডিজিটাল টোকেন (JWT) ব্যবহার, রেট লিমিটিং এবং ডেটা অ্যাক্সেসের জন্য এনআইডি প্রয়োজনীয়তা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া, এনআইডির বিপরীতে IMEI রেসপন্সের জন্য ১৩, ১৭ এবং ১০ ডিজিটের ফরম্যাটে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তাদের এনআইডির সাথে যুক্ত সিমের সংখ্যা, সিমের সাথে যুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা এবং সম্ভাব্য আর্থিক অপরাধের (যেমন মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন জুয়া) ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হবে। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মতে, নাগরিকের অধিকার হল তার এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইসের ব্যবহার কীভাবে হচ্ছে তা জানার। এ ধরনের স্বচ্ছতা ভবিষ্যতে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।
মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, এনইআইআর সিস্টেমের সম্পূর্ণ কার্যকরী হওয়া এবং সকল অবৈধ সিম বা হ্যান্ডসেট বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আইনি পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যে পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অপারেটর, বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের প্রয়োজন হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পর নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সত্ত্বেও, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, ডেটা নিরাপত্তা ও সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, তথ্যের অস্থায়ী অস্বাভাবিকতা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ না করে ধৈর্য ধরতে।
সংক্ষেপে, এনআইডিতে একাধিক সক্রিয় সিম বা হ্যান্ডসেটের তথ্যের অতিরিক্ততা ডেটা মাইগ্রেশনের সময়সূচি এবং ঐতিহাসিক রেকর্ডের অন্তর্ভুক্তির ফলে ঘটেছে। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই সমস্যার সমাধানে ঐতিহাসিক ডেটা আর্কাইভ করে বর্তমান সক্রিয় ডিভাইসের সংখ্যা প্রদর্শনের দিকে কাজ করছে, যা নাগরিকের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।



