নববর্ষের প্রথম ঘন্টার দিকে ক্র্যান্স-মন্টানা স্কি রিসোর্টের একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৯ জনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো স্পার্কলারগুলো ছাদে খুব কাছাকাছি রাখা হয়েছিল, যা দ্রুত অগ্নি ছড়িয়ে দেয়।
বৈধিক তদন্তে ভ্যালাইসের অ্যাটর্নি জেনারেল বেট্রিস পিলৌড উল্লেখ করেছেন, যে ঘটনাস্থলের ব্যবহৃত উপকরণ, বারটির অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্ষমতা এবং ঘটনার সময় উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশদভাবে পরীক্ষা করা হবে।
প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর যদি অপরাধের দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সনাক্ত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পিলৌডের মতে, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখনও জীবিত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা সম্ভব।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, শ্যাম্পেনের বোতলে রাখা স্পার্কলারগুলো ছাদের নিকটে গিয়ে জ্বলে উঠেছে এবং তা দ্রুত বিস্তৃত হয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। এই কারণই এখন পর্যন্ত তদন্তের প্রধান দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মৃতদেহের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ এখনও চলমান, তবে পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডেরিক গিসলার জানান, মৃতদের সনাক্তকরণ এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গিসলার উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে ৪০ জনের মধ্যে বেশিরভাগের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এখনও কাজ বাকি।
আহতদের মধ্যে ১১৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭১ জন সুইস নাগরিক, ১৪ জন ফরাসি, ১১ জন ইতালিয়ান এবং চারজন সার্বিয়ান অন্তর্ভুক্ত। বাকি ছয়জনের পরিচয় প্রক্রিয়া চলমান, এবং ভবিষ্যতে সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
আহতদের অধিকাংশই গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবল খেলোয়াড় তাহিরিস দোস সান্তোসকে গম্ভীর পোড়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তার ক্লাবের বিবৃতি অনুযায়ী, তাকে জার্মানিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভ্যালাইস অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ম্যাথিয়াস রেনার্ড উল্লেখ করেছেন, প্রায় পঞ্চাশজনের বেশি আহতকে ইউরোপের বিভিন্ন বিশেষায়িত পোড়া চিকিৎসা কেন্দ্রের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে বা শীঘ্রই করা হবে। তিনি যোগ করেন, অনেকেই এখনও জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন।
অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং অপ্রতুল তদারকি এই ধরনের দুর্যোগের মূল কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তবে বর্তমান পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সেবা ও চিকিৎসা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের ত্বরিত সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, মৃতদের পরিবারকে সহায়তা ও সমর্থন প্রদানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর, ক্র্যান্স-মন্টানা অঞ্চলের বার ও রেস্টুরেন্টগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্মূল্যায়ন ও কঠোর প্রয়োগের দাবি বাড়ছে। সরকারী সংস্থা ও স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
অধিক তথ্য ও আপডেট পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে অতিরিক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।



