বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও মানবাধিকার কর্মী মীর ইয়ার বালুচ ১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি চীন ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে বেলুচিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা তুলে ধরে, ভারতের সক্রিয় সমর্থন দাবি করেন।
মীর ইয়ার বালুচের মতে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে দশকের পর দশক ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা চালু রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি বেলুচিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী না করা হয়, তবে কয়েক মাসের মধ্যে চীন তাদের সেনা পাঠিয়ে অঞ্চল দখলে নিতে পারে।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান থেকে করা হয়েছিল। মীর ইয়ার বালুচ জানান, নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে “২০২৬ বেলুচিস্তান গ্লোবাল ডিপ্লোমেটিক উইক” উদযাপন করা হবে, যেখানে বেলুচিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ট্যাগ করে তার সমর্থন আহ্বান করেন।
চিঠিতে মীর ইয়ার বালুচ জোর দিয়ে বলেন, বেলুচিস্তানের ৬ কোটি জনগণের ইচ্ছার বিপরীতে যদি চীনা সেনা তাদের মাটিতে প্রবেশ করে, তবে তা শুধুমাত্র অঞ্চলের নয়, ভারতের ভবিষ্যতের জন্যও “অকল্পনীয় ভয়” সৃষ্টি করবে। তিনি এই সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে “অভাবনীয় আতঙ্ক” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিনিধিরা চিঠিতে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বেলুচিস্তানে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন বলে তারা জোর দেন।
মীর ইয়ার বালুচের চিঠিতে চীন-পাকিস্তান কৌশলগত জোটের উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, চীন ও পাকিস্তানের অর্থনৈতিক করিডোর এখন “চূড়ান্ত পর্যায়ে” পৌঁছেছে, যা বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে। এই করিডোরের সম্পূর্ণতা চীনের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা গোষ্ঠী এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। তারা দাবি করে, বেলুচিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্য ভারতের সমর্থন অপরিহার্য। মীর ইয়ার বালুচের মতে, ভারত যদি এই সময়ে বেলুচিস্তানের পাশে দাঁড়ায়, তবে তা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের প্রতি চিঠিতে সরাসরি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, ভারত বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করুক। মীর ইয়ার বালুচ উল্লেখ করেন, ভারতের সমর্থন ছাড়া বেলুচিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জন কঠিন হবে।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মীর ইয়ার বালুচের বক্তব্যের ভিত্তিতে, বেলুচিস্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেলুচিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের জন্য এখনই সময়, না হলে চীন-পাকিস্তান জোটের শক্তি অঞ্চলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা গোষ্ঠী ২০২৬ সালের নববর্ষে “গ্লোবাল ডিপ্লোমেটিক উইক” উদযাপন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই ইভেন্টের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ স্থাপন করে, বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। মীর ইয়ার বালুচ এই উদ্যোগকে বেলুচিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখেন।
চীন-পাকিস্তান কৌশলগত জোটের অগ্রগতি এবং বেলুচিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে মীর ইয়ার বালুচের সতর্কতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি যদি সমাধান না করা হয়, তবে তা কেবল বেলুচিস্তানের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মীর ইয়ার বালুচের চিঠি এবং তার দাবিগুলি এখন ভারতের কূটনৈতিক নীতি গঠনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে স্পষ্ট যে, বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান দৃঢ় করতে চায় এবং চীন-পাকিস্তান জোটের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে।



