শিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ব্যাচলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচে রংপুর রাইডার্স শিলেট টাইটান্সকে ছয় উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে জয়লাভ করে। রাইডার্সের জয় তাদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়, আর শিলেটের চারটি ম্যাচের মধ্যে দু’টি জয়।
রাইডার্সের বোলাররা প্রথমে মাঠে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। ফাহিম আশরাফ তিনটি উইকেট নিয়ে ১৮ রান conced করে, আর মুস্তাফিজুর রহমান দুইটি উইকেটের সঙ্গে ১৯ রান দিলেন। দুজনের সম্মিলিত পাঁচটি উইকেট শিলেটকে ২০ ওভারে ১৪৪ রান-এ আটকে রাখে।
মুস্তাফিজুরের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি টি২০ ক্রিকেটে দ্রুততম পেসার হিসেবে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক অতিক্রম করেন, এবং এই ম্যাচে ৪০১তম উইকেট নেন, যা ৩১৫টি ম্যাচে অর্জিত। শিলেটের ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান মিরাজকে প্রথম ওভারে বাদ দিয়ে তিনি এই রেকর্ডে পৌঁছান, এরপর আরেকটি উইকেট নেন।
শিলেটের ব্যাটিংয়ে আফিফ হোসেন ৩১ বলের মধ্যে ৪৬ রান করে শীর্ষ স্কোরার হন, আর ইথান ব্রুকস ৩০ বলে ৩২ রান যোগ করেন। তবে বাকি ব্যাটসম্যানদের অবদান যথেষ্ট না হওয়ায় দলটি মোট ১৪৪ রান-এ আটকে যায়।
রাইডার্সের ব্যাটিং শুরুতে সতর্কতা অবলম্বন করে। লিটন দাস ৩৫ রান এবং কাইল মেয়ার্স ৩১ রান করে মাঝারি শুরুর ভিত্তি গড়ে তোলেন, তবে ১৪.৫ ওভারে স্কোর ৯৫/৪ হয়ে যায়।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে আসে মহমুদুল্লাহর আক্রমণাত্মক খেলায়। তিনি ১৬ বলের মধ্যে ৩৪ রান অচল রেখে, বিশেষ করে ১৬তম ওভারে মিরাজের ওপর চারটি ধারাবাহিক বাউন্ডারি মারেন। তার দ্রুতগতির আউটপুট রাইডার্সকে পুনরায় আত্মবিশ্বাস দেয়।
খুশদিল শাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, ১১ বলে ১৯ রান দ্রুত স্কোর করে। মহমুদুল্লাহ ও খুশদিলের এই অচল অংশীদারিত্ব ২৪ ডেলিভারিতে ৫০ রান যোগায়, যা রাইডার্সকে ১৪৫/৪ স্কোরে ১৮.৫ ওভারে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রাইডার্স শিলেটকে ছয় উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে, এবং তাদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করে। শিলেট টাইটান্স এখন চারটি ম্যাচে দু’টি জয় নিয়ে টেবিলে চতুর্থ স্থানে নেমে আসে।
ম্যাচের পর রাইডার্সের কোচ দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, বিশেষ করে বোলিং ইউনিটের শৃঙ্খলা ও শেষ ওভারে দ্রুত রানের গতি উল্লেখ করেন। শিলেটের কোচ ব্যাটিং লাইনআপের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যদিও আফিফের আউটসাইডে কিছুটা আশাবাদী ছিলেন।
পরবর্তী ম্যাচে রাইডার্সের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম কিংস, যা আগামী সপ্তাহে একই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। শিলেট টাইটান্সের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে ঢাকা ডায়নামো, যা তাদের শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই জয় রংপুর রাইডার্সের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটাবে, বিশেষ করে মুস্তাফিজুরের রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে। শিলেটের জন্য এখনো সুযোগ রয়েছে, তবে পরবর্তী ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
বিপিএল সিজনের এই পর্যায়ে প্রতিটি জয় দলকে প্লে-অফের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, এবং রাইডার্সের এই জয় তাদের টেবিলের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। শিলেটের জন্য এখনো চারটি ম্যাচ বাকি, যেখানে তারা পুনরায় জয়লাভের চেষ্টা করবে।



