নালচিটি লঞ্চ গেটকে শহীদ শারিফ ওসমান হাদির নামে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। শারিফ ওসমান হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই উত্থানের প্রধান কর্মী, গত বছর ডিসেম্বরের ১২ তারিখে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলি হয়ে নিহত হন। আজ বিকেলে জেলাটির নালচিটি উপজেলা, ঝালকাঠি জেলায় এই নামকরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিপিং অ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হোসেন প্ল্যাকটি উন্মোচন করেন।
উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা গেটের সামনে নতুন নামের প্ল্যাকটি উঁচু করে দেখিয়ে, শারিফের ত্যাগকে স্মরণ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন যে, গৃহ মন্ত্রণালয় হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত বহু সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “মাসের মাঝামাঝি সময়ে আরও বিশদ তথ্য প্রকাশ পাবে” এবং সরকারের এই মামলায় নেওয়া পদক্ষেপকে গম্ভীর বলে উল্লেখ করেন।
সাখাওয়াত আরও জোর দিয়ে বলেন, শারিফের হত্যাকারীদের দেশীয় সীমানা পার করে পালিয়ে গেলেও তাদের অনুসরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি যুক্তি দেন, “যদি অপরাধীরা কোনো প্রতিবেশী দেশে গিয়ে থাকেন, তবুও আমরা তাদের সন্ধান করে আনা নিশ্চিত করব”। এই মন্তব্যগুলো শারিফের পরিবার ও সমর্থকদের জন্য আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
শারিফ ওসমান হাদি, ঢাকা-৮ নম্বর থেকে সংসদ সদস্যের জন্য প্রার্থী ছিলেন এবং রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছিলেন। ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর মাথা আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানবাহিত হন, যেখানে তিন দিন পর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের বেডে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
শারিফের মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তার মৃত্যুর পর থেকে ইনকিলাব মঞ্চ ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী তার ত্যাগকে স্মরণ করে বিভিন্ন প্রতিবাদ ও সমাবেশের আয়োজন করেছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে, শারিফের হত্যার তদন্তকে অগ্রাধিকার দিয়ে, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শারিফের নামের এই লঞ্চ গেটটি তার আদর্শ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সময়ে, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেন যে, দেশের লক্ষ লক্ষ নাগরিক নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন, যা নিরাপত্তা ও সেবা মানের ওপর প্রভাব ফেলছে। তিনি এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নকল ফোনের বাজার দমন করার জন্য কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। এই মন্তব্যটি শারিফের স্মরণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অন্যান্য জরুরি সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।



