20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার চালুর পর কোটি কোটি নকল ফোন শনাক্ত

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার চালুর পর কোটি কোটি নকল ফোন শনাক্ত

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (NEIR) চালু হওয়ার পর দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে লক্ষ লক্ষ ভুয়া IMEI নম্বরযুক্ত ফোনের উপস্থিতি প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শনিবার (২ জানুয়ারি) ফেসবুকে এই তথ্য শেয়ার করে দেশের টেলিকম সেক্টরে নকল ফোনের ব্যাপকতা তুলে ধরেছেন।

বক্তা জানান, NEIR সিস্টেমের কার্যকরী হওয়ার পর নেটওয়ার্কে বর্তমানে কোটি কোটি ভুয়া IMEI নম্বর সক্রিয় রয়েছে। এই নম্বরগুলো ব্যবহারকারী ফোনগুলো কোনো রেডিয়েশন টেস্ট, স্পেসিফিক অ্যাবজর্বশন রেট (SAR) বা অন্যান্য নিরাপত্তা পরীক্ষা পায়নি।

ফোনগুলো চারটি প্রধান মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে, যদিও সেগুলো নিকৃষ্ট মানের নকল ডিভাইস। ব্যবহারকারীরা এই ডিভাইস ব্যবহার করে দৈনন্দিন যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও সেগুলো নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনই এই IMEI সম্বলিত ফোনগুলোকে ব্লক করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি না করার জন্য নকল ফোনগুলোকে “গ্রে” ক্যাটেগরিতে ট্যাগ করা হবে এবং ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

গত দশকের তথ্য অনুযায়ী, একক IMEI নম্বরে মোট ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি ফোন নিবন্ধিত হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যা বিভিন্ন ডকুমেন্ট আইডি, MSISDN এবং IMEI সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে, যা শুধুমাত্র স্মার্টফোন নয়, বিভিন্ন IoT ডিভাইসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

অপারেটররা মোবাইল, সিম সংযুক্ত ডিভাইস এবং IoT ডিভাইসের IMEI পার্থক্য করতে অক্ষম, ফলে একই IMEI নম্বরের অধীনে সিসিটিভি ক্যামেরা বা অন্যান্য সংযুক্ত ডিভাইসও রেকর্ডে আসতে পারে। বৈধভাবে আমদানি করা IoT পণ্যগুলোকে আলাদা ট্যাগিং প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে শীর্ষ কিছু IMEI নম্বরের তালিকায় দেখা যায়, একই নম্বরে সাড়ে ১৯ লাখ ডিভাইস নিবন্ধিত হয়েছে, যা ডুপ্লিকেট হিসেবে গণ্য হয়। এই ডুপ্লিকেশন সমস্যার ফলে একক IMEI দিয়ে কয়েক লাখ মোবাইল ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষ করে শূন্য দিয়ে শেষ হওয়া IMEI নম্বরে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ফোন রেকর্ডে রয়েছে, যা নেটওয়ার্কে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ সংখ্যা।

অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে নেটওয়ার্কে সক্রিয় ১ লাখের বেশি ডুপ্লিকেট ও নকল ফোনের তালিকা পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি, যা নকল ফোনের বিস্তারকে আরও গভীর করে তুলেছে।

NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে এখন নকল ফোনের সনাক্তকরণ সহজতর হয়েছে, তবে সম্পূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে আরও সময় ও সমন্বয় প্রয়োজন। সরকার ও টেলিকম সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করে নকল ডিভাইসের ব্যবহার কমাতে এবং ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেবে।

এই পরিস্থিতি টেলিকম সেক্টরে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে IMEI ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাগিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করে নকল ফোনের প্রবেশদ্বার বন্ধ করা সম্ভব হবে।

সারসংক্ষেপে, NEIR চালুর পর দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে কোটি কোটি নকল ফোনের উপস্থিতি প্রকাশ পেয়েছে, যা নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর স্বার্থের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments