নতুন বছরের প্রথম ঘণ্টায় সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ক্র্যান্স-মন্টানা স্কি রিসোর্টের লে কনস্টেলেশন বারতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। বারটি তীব্রভাবে পুড়ে যায়, ছাদে শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতে ধরা স্পার্কলারগুলোও জ্বলে ওঠে। এই ঘটনার ফলে ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৯ জনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে।
সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় নির্ধারণে কয়েক দিন থেকে সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বর্তমানে ১১৩ জন আহতকে চিহ্নিত করা হয়েছে, বাকি ছয়জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা বাকি।
পরিবার ও বন্ধুদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত কঠিন, তারা সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের সন্ধানে সক্রিয়ভাবে পোস্ট করে। বিশেষ করে বারটির ভিতরে উপস্থিত কিশোরদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য অনলাইন আবেদন বাড়ছে।
সুইস নাগরিক আর্থার ব্রোডার, ১৬ বছর বয়সী, এখনও অদৃশ্য। তার মা লেটিশিয়া লৌজানে বাস করেন, তিনি লৌজানে ফিরে হাসপাতালে অনুসন্ধান করেছেন, আর আর্থারের বাবা বার্নে গিয়ে একই কাজ করেছেন, তবে কোনো ফলাফল পাননি।
লেটিশিয়া জানান, “আমি যেন এক দুঃস্বপ্নে বাস করছি। হয়তো আমি আমার ছেলেকে মৃতদেহে পাব, অথবা গুরুতর অবস্থায়।” তিনি আর্থারের বন্ধুদের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা করে বলেন, “অনেকের দেহ অর্ধেক জ্বলে গিয়ে আছে, শব্দই নেই—এটা যেন নরকের অভিজ্ঞতা।”
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ছয় নাগরিক এখনও অদৃশ্য। এদের মধ্যে রয়েছে ১৬ বছর বয়সী এমানুয়েল গালেপ্পিনি, যিনি জেনোয়া থেকে আসা জুনিয়র গলফার, বর্তমানে দুবাইতে বসবাস করছেন।
ইতালিয়ান গলফ ফেডারেশন গালেপ্পিনির মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে একটি শোকসূচক বার্তা প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে “উৎসাহ ও সত্যিকারের মূল্যবোধের অধিকারী তরুণ ক্রীড়াবিদ” বলা হয়েছে।
গালেপ্পিনির পিতা এদোয়ার্ডো জানান, তার সন্তান বারটির ভিতরে ছিল এবং মধ্যরাতের কাছাকাছি শেষবার শোনা গিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমার ছেলে তখন বারটিতে ছিল, আর তার পর থেকে কোনো খবর পাইনি।”
সুইস সরকার জরুরি সেবা ও শারীরিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবং মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক দলকে ত্বরান্বিত করেছে। একই সঙ্গে, ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুবাই ও সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের পরিচয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, যা পরিবারগুলোর জন্য মানসিক কষ্ট বাড়িয়ে দেবে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, সুইস ও ইতালির কূটনৈতিক সংযোগগুলো পুনরায় জোরদার হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্যোগে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। পরিবারগুলো এখনো অনিশ্চিত অবস্থায়, তবে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা তাদের আশার আলো জ্বালিয়ে রাখছে।



