ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার আজ হাদ্রামাউত প্রদেশে একটি সামরিক অভিযান চালিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত দক্ষিণীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে থাকা শিবিরগুলো পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। হাদ্রামাউতের আল‑খাশা’এ অবস্থিত বৃহত্তম শিবিরটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রদেশের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
অভিযানটি হাদ্রামাউতের গভার্নর সেলেম আহমেদ সাঈদ আল‑খুনবাশি আজকের ঘোষণায় জানিয়েছেন যে তার বাহিনী শিবিরটি দখল করে নিয়েছে এবং তা প্রদেশের সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে স্বীকৃত। তিনি উল্লেখ করেন যে এই পদক্ষেপটি অঞ্চলের শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নেওয়া হয়েছে।
গভার্নর পূর্বে জানিয়েছিলেন যে তার বাহিনী একটি “শান্তিপূর্ণ” অভিযান চালাবে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই ঘোষণার পরপরই বলছেন যে অভিযানটি শান্তিপূর্ণ ছিল না। তিনি যুক্তি দেন যে সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভুল পথে পরিচালিত করেছে, কারণ শিবির দখলের কয়েক মিনিট পরই সাতটি বায়ু হামলা চালানো হয়।
সৌদি পক্ষ থেকে এই বায়ু হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এই আক্রমণে কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
হাদ্রামাউতে গভার্নরকে “হোমল্যান্ড শিল্ড” বাহিনীর সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই পদে তাকে সামরিক, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সব ধরনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা প্রদেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে।
গভার্নর টেলিভিশনে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপটি যুদ্ধ ঘোষণা নয়, বরং শিবিরগুলোকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে ব্যবহার করা রোধের জন্য এবং হাদ্রামাউতকে বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
হাদ্রামাউত প্রদেশ, যা তেল উৎপাদনের জন্য পরিচিত, সৌদি আরবের সীমানার সঙ্গে সংলগ্ন এবং বহু প্রখ্যাত সৌদি পরিবারের মূলস্থান হিসেবে বিবেচিত। এই ভৌগোলিক সংযোগের কারণে প্রদেশের নিরাপত্তা উভয় দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গালফ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও তেল কোটার মত বিষয়গুলোতে মতবিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এই বিরোধের ফলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের দুই প্রধান বাহিনীর মধ্যে তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অভিযানের পর থেকে হাদ্রামাউতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে সরকার দাবি করে যে এই পদক্ষেপটি অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা হাদ্রামাউতে চলমান উত্তেজনা এবং গালফের দুই শক্তির মধ্যে বাড়তে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে নজর রাখছেন। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে গভার্নরকে সম্পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা হাদ্রামাউতে সামরিক কার্যক্রমের তীব্রতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার পথও পুনরায় বিবেচনা করা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, হাদ্রামাউতে এই সামরিক অভিযান গালফের দুই প্রধান দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে, যা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



