নতুন বছরের প্রথম দিনেই সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ক্র্যান্স‑মন্টানা স্কি রিসোর্টের লে কনস্টেলেশন বারতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার ফলে ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৯ জনের আঘাত হয়েছে। রাতের অর্ধরাতের কাছাকাছি স্পার্কলারসহ পানীয়ের বোতলগুলো জ্বলে উঠার ফলে ছাদ জ্বলে ওঠে এবং দ্রুতই অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আতঙ্কে পালিয়ে যায়, তবে কিছুজনের অবস্থান অজানা থেকে যায়।
সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে মৃতদেহের পরিচয় নির্ধারণে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, কারণ অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও ধ্বংসের পরিমাণের কারণে দেহের অবস্থা জটিল। বর্তমানে মৃতদেহের সংখ্যা ৪০ এবং আহতের সংখ্যা ১১৯ নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে নিখোঁজদের তালিকায় বেশ কয়েকজন তরুণ অন্তর্ভুক্ত।
পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের আহ্বান বাড়ছে; অনেকেই তাদের প্রিয়জনের শেষ মুহূর্তের ছবি, ফোন নম্বর বা কোনো চিহ্ন শেয়ার করে অনুসন্ধানকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী প্রচেষ্টা কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানকে সহায়তা করছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন সূত্র উন্মোচন করতে পারে।
ইতালীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ছয়জন ইতালীয় নাগরিক এখনও অজানা, যার মধ্যে দুইজন কিশোরের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এই কিশোরদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী ইমানুয়েল গালেপ্পিনি, যিনি জেনোয়া শহরের বাসিন্দা এবং বর্তমানে দুবাইতে বসবাস করছিলেন, ছিলেন একজন জুনিয়র গলফার।
ইতালীয় গলফ ফেডারেশন গালেপ্পিনির প্রতি শোক প্রকাশ করে একটি সংক্ষিপ্ত স্মরণীয় বার্তা প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে “উদ্দীপনা ও সত্যিকারের মূল্যবোধের অধিকারী তরুণ ক্রীড়াবিদ” বলা হয়েছে, তবে অগ্নিকাণ্ডের উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এখনও তার মৃত্যুর নিশ্চিততা জানিয়ে না দিয়ে, পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে চলেছেন।
অন্য একজন নিখোঁজ ইতালীয় কিশোর হলেন জিওভান্নি তাম্বুরি, বোলোনার বাসিন্দা, যিনি ১৬ বছর বয়সী। তার মা ক্যার্লা মাসিয়েল্লো জানান যে তিনি বাবা সঙ্গে ছুটিতে এসেছিলেন, তবে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে লে কনস্টেলেশন বারে গিয়েছিলেন। তাম্বুরির শেষ দেখা গিয়েছিল অগ্নিকাণ্ডের আগে, এবং তার ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ কেটে যাওয়ার পর থেকে তার অবস্থান অজানা।
তাম্বুরির এক সহপাঠী শিক্ষক, পোর্টা সারাগোজ্জা হাই স্কুলের শিক্ষক তানিয়া কাওসিও, তার বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব ও হাসি-খুশি মনোভাবের প্রশংসা করেছেন, এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি সবসময় সহপাঠীদের জন্য কফি নিয়ে আসতে ইচ্ছুক ছিলেন। এই ব্যক্তিগত স্মৃতি পরিবারকে শোকের মধ্যে কিছু সান্ত্বনা দিচ্ছে।
সুইস নাগরিক আর্থার ব্রোডার্ড, ১৬ বছর বয়সী, ও নিখোঁজদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তার পরিবারও সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের আহ্বান জানিয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সুইস ফেডারেল পুলিশ এবং স্থানীয় জরুরি সেবা দল অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অগ্নি নির্বাপণ পরবর্তী ধ্বংসাবশেষের বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড এবং উপস্থিতদের বিবরণ সংগ্রহ করছে।
প্রাথমিক তদন্তে স্পার্কলারসহ অ্যালকোহলিক পানীয়ের বোতল ব্যবহারের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা অগ্নিকাণ্ডের ত্বরান্বিত করার প্রধান কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করা হলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হতে পারে।
অধিকন্তু, স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও মৃত্যুর পরিণতি বিবেচনা করে, ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে। আদালতে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা শিকারদের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
এই সময়ে, পরিবার, বন্ধু ও কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা নিখোঁজদের সন্ধান ও মৃতদেহের সনাক্তকরণে কেন্দ্রীভূত। তদন্তের অগ্রগতি ও নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে জানাবে, যাতে শোকাহত পরিবারকে যথাসময়ে সঠিক তথ্য প্রদান করা যায়।



