যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইতালীয় পাস্তার ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, যা ১৩টি ইতালীয় উৎপাদকের রপ্তানি পণ্যের ওপর প্রযোজ্য ছিল। এই পরিবর্তন বৃহস্পতিবার ইতালীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং আমেরিকান বাণিজ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে, বাণিজ্য বিভাগ ইতালীয় পাস্তার ওপর প্রায় ৯২ শতাংশের কাছাকাছি শুল্ক আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি পণ্যের ওপর ইতিমধ্যে ১৫ শতাংশের মৌলিক শুল্ক রয়েছে, ফলে মোট শুল্কের হার একশো শতাংশেরও বেশি হতে পারত।
শুল্কের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ইতালীয় কোম্পানিগুলোকে ‘ডাম্পিং’ অভিযোগ করেছে, অর্থাৎ তারা মার্কিন বাজারে পণ্যকে স্বাভাবিক মূল্যের নিচে বিক্রি করে স্থানীয় উৎপাদকদের ক্ষতি করছে বলে দাবি করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শুল্কের হার নির্ধারণের আগে বিশদ পর্যালোচনা চালানো হয়।
ইতালীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ১৩টি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বেশিরভাগই সমাধান করেছে, ফলে শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই কোম্পানিগুলো তাদের মূল্য নীতি ও বাজার আচরণে পরিবর্তন এনেছে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে আমেরিকান ভোক্তাদের পাস্তার দাম তীব্রভাবে বাড়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। পূর্বে অনুমান করা হয়েছিল যে, শুল্কের উচ্চ হার পণ্য মূল্যের সঙ্গে সমান বা তার বেশি হয়ে ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করবে।
ইতালীয় রপ্তানিকারকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত একটি স্বস্তির বাতাস বয়ে এনেছে, কারণ শুল্কের হ্রাস তাদের মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করবে। যদিও ১৩টি কোম্পানির শেয়ার মোট ইতালীয় পাস্তা রপ্তানির একটি ছোট অংশ, তবু শুল্কের হ্রাস তাদের বিক্রয় পরিমাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মেলোনি এবং ট্রাম্পের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, এবং শুল্কের উচ্চ হার তার সরকারের জন্য একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারত।
ট্রাম্পের শাসনকালে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক শুল্ক নীতি চালু হয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু শুল্ক হ্রাস বা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। পাস্তা শুল্কের ক্ষেত্রে এই হ্রাসটি বৃহত্তর বাণিজ্য নীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা যায়।
অর্থনীতিবিদরা পূর্বে সতর্কতা দিয়েছিলেন যে, উচ্চ শুল্ক ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়ে জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমে গেছে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ পুনরায় মূল্যায়ন করতে পারে, যদি কোনো নতুন ‘ডাম্পিং’ অভিযোগ উঠে। তবে বর্তমান পর্যায়ে ইতালীয় পাস্তা রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা কম বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুল্ক হ্রাসের ফলে ইতালীয় পাস্তার আমেরিকান শেল্ফে উপস্থিতি বাড়তে পারে এবং মূল্য প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে, আমেরিকান পাস্তা উৎপাদনকারীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মুখে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
সংক্ষেপে, শুল্কের হ্রাস ইতালীয় রপ্তানিকারকদের জন্য রপ্তানি পরিবেশকে সহজ করেছে, ভোক্তাদের জন্য মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উত্তেজনা কমিয়েছে। তবে বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নতুন শুল্ক ব্যবস্থা বাজারকে প্রভাবিত না করে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে শুল্কের প্রয়োগ ও হ্রাস উভয়ই অর্থনৈতিক স্বার্থ ও রাজনৈতিক সম্পর্কের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।



