২ জানুয়ারি শুক্রবার, মানিকগঞ্জের বেশ কয়েকটি বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহে তীব্র ঘাটতি দেখা গেছে। সরকার নির্ধারিত ১,২৫০ টাকার দাম থেকে প্রায় দেড় গুণ বেশি, সর্বোচ্চ ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিক্রেতারা ক্যাশ‑মেমো প্রদানেও অনিচ্ছুক, ফলে গ্রাহকদের আর্থিক রেকর্ডের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরকারি মূল্য তালিকায় গ্যাস সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ মূল্য ১,২৫০ টাকা, তবে বাজারে বিক্রয়মূল্য ১,৬৫০ থেকে ১,৮০০ টাকার মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে। এই অতিরিক্ত মূল্য গ্রাহকদের গৃহস্থালি বাজেটের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য।
গ্যাসের দাম ও সরবরাহের অবস্থা যাচাই করতে দুধবাজার, গঙ্গাধরপট্টি, বেউথা এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তদন্ত করা হয়। সব এলাকায়ই গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি স্পষ্ট, এবং বিক্রেতারা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছে।
স্থানীয় ভোক্তারা দাবি করছেন যে কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, গ্যাসের ঘাটতি স্বাভাবিক বাজারের ফল নয়, বরং সিলিন্ডার সরবরাহের চেইনে নিয়ন্ত্রণের অভাবের ফলে।
বেউথা এলাকার এক ভাড়াটিয়া, মো. শাকুর, পূর্বে বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন তার এলাকায় ওই কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাকে অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, যা সরকারি মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ফ্রেশ, ডেলটা, পেট্রোম্যাক্স এবং আইগ্যাসের সিলিন্ডার কিছু স্থানে পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর দামও ১,৬৫০ থেকে ১,৮০০ টাকার মধ্যে। এই ব্র্যান্ডগুলোও সীমিত পরিমাণে উপলব্ধ, ফলে গ্রাহকদের বিকল্প সীমিত হয়ে পড়েছে।
ভোক্তা বাবুল সাহা, যিনি স্থানীয় বাজারে গ্যাস ক্রয় করেন, তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাজারে ১,৬৫০ থেকে ১,৮০০ টাকায় গ্যাস বিক্রি হচ্ছে, এভাবে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি দাম নিয়ন্ত্রণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের দাবি তীব্রভাবে প্রকাশ করেছেন।
খুচরা বিক্রেতা মো. খবির হোসেন বাবু জানান, “বেশিরভাগ বড় কোম্পানির গ্যাস এখন পাওয়া কঠিন। যেগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোও ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। যদিও আমরা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভে বিক্রি করছি, তবু ক্যাশ‑মেমো না দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।” তিনি অতিরিক্ত মূল্যের পরিমাণ ও রেকর্ডের অভাবকে গ্রাহকের জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কয়েকজন ডিলারও স্বীকার করেছেন যে গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা রয়েছে এবং তারা উচ্চ দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে তারা ক্যাশ‑মেমো না দেওয়ার নীতি বজায় রাখছেন, যা গ্রাহকের আর্থিক স্বচ্ছতাকে আরও জটিল করে তুলছে।
মেসার্স রাইয়্যান ট্রেডার্সের মালিক আরিফুর রহমান শ, গ্যাসের ঘাটতি স্বীকার করে বলেন, “বাজারে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ যথেষ্ট নয়, তাই দাম বাড়ে। আমরা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছি, তবে গ্রাহকের সঙ্গে ন্যায্যতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।” তার বক্তব্য থেকে দেখা যায় যে, ডিলারদেরও সরবরাহ চেইনের অস্থিতিশীলতা মোকাবেলায় মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সরাসরি গৃহস্থালি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে। উচ্চ দামের গ্যাসের চাহিদা বাড়লে কালো বাজারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, যেখানে অনিয়ন্ত্রিত দামে গ্যাস বিক্রি হতে পারে। এছাড়া, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের লাভের মার্জিন সংকুচিত হওয়ায় তারা সরবরাহ চেইনে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে পারে।
সরবরাহের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে। গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সিলিন্ডার বিতরণ নিশ্চিত করা, এবং বিক্রেতাদের ক্যাশ‑মেমো প্রদান বাধ্যতামূলক করা জরুরি। তদুপরি, মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য রিয়েল‑টাইম মনিটরিং সিস্টেম চালু করা উচিত।
সংক্ষেপে, মানিকগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি ও অতিরিক্ত মূল্য গ্রাহকের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের কঠোর প্রয়োগই এই সংকটের সমাধানের মূল চাবিকাঠি হবে।



