সৌদি আরবের বিমানবাহিনী আজ শুক্রবার ইয়েমেনের হারদামাউত প্রদেশে একাধিক আকাশীয় আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সাতজনের মৃত্যু এবং প্রায় বিশজন আহত হয়েছে।
আক্রমণটি হারদামাউতের ওয়াদি হারদামাউত ও মরুভূমি অঞ্চলের আল-খাসাহ ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে, যা স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী স্ট্যান্ডিং ট্রান্সলেশন কাউন্সিল (STC) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। গোষ্ঠীটি এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে এবং উল্লেখ করেছে যে তাদের নেতৃত্বের একজন, মোহাম্মদ আব্দুলমালিক, ক্যাম্পের ওপর আক্রমণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন।
STC পূর্বে জানিয়েছিল যে তারা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে হারদামাউত অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, এবং স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে ‘সাউথ আরাবিয়া’ নামে একটি নতুন সত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই স্বতন্ত্রতার প্রচেষ্টা ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় সরকার ও তার সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
হারদামাউত প্রদেশের গভর্নর পূর্বে ঘোষণা করেছিলেন যে, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সরিয়ে সামরিক অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার জন্য একটি ‘শান্তিপূর্ণ’ অভিযান চালানো হবে। তবে STC এর এক কর্মকর্তা জানান, শান্তিপূর্ণ অভিযান ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই সৌদি বিমানবাহিনী আকাশীয় আক্রমণ চালায়, যা ঘোষণার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এই কর্মকর্তার মতে, সৌদি আরবের ‘শান্তির’ রূপকথা বাস্তবায়নে কোনো ইচ্ছা না থাকায়, ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাতবারের বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, এই ক্রিয়াকলাপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য বহন করে।
সৌদি আরব এখনও এই আক্রমণ সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য প্রদান করেনি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের আকাশীয় হস্তক্ষেপ ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং মানবিক সংকটকে তীব্র করতে পারে।
ইউএন ও মানবিক সংস্থাগুলি পূর্বে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বেসামরিক ক্ষতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সশস্ত্র সংঘাতের তীব্রতা কমাতে আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি আকাশীয় আক্রমণ বাড়ে, তবে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবার প্রবেশাধিকারে আরও বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন, সৌদি আরবের এই পদক্ষেপটি হারদামাউতে তার প্রভাব পুনরুদ্ধার এবং STC এর স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনাকে বাধা দেওয়ার কৌশলগত উদ্দেশ্য বহন করে। একই সঙ্গে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারী বাহিনীর সামরিক অভিযানও এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলছে।
বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি-নির্ধারকরা সাধারণত সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকার করে, তবে মানবিক আইনের লঙ্ঘন সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই ঘটনাকে নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যেখানে আকাশীয় হস্তক্ষেপের বৈধতা ও মানবিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
অবিলম্বে, হারদামাউতে আহতদের চিকিৎসা ও মৃতদের দাফন কাজ চালু রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে অতিরিক্ত রোগীর চাপের মুখে রয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলি জরুরি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, সৌদি আরব ও STC এর মধ্যে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা ও তার প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরিস্থিতি যদি আরও উত্তেজিত হয়, তবে অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।



