ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক এবং ঢাকা‑৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী, ২ জানুয়ারি শুক্রবার ঢাকার জিয়া উদ্যানে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় দেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বর্ণনা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
সেই অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল একত্রে বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, এরপর হোসেন তার বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের পরিচয়, ভূখণ্ড ও স্বাধীন রাষ্ট্রের ভিত্তি, তাই এ বিষয়ে কোনো নাগরিক অবস্থান গ্রহণ করা অসম্ভব।
হোসেন উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা জরুরি, যাতে জাতি স্বার্থে একসঙ্গে এগিয়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, অন্য কোনো দেশের স্বার্থ নয়।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশ কখনো আপস করেনি এবং করবে না, এ কথাটিই তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জিয়া উর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতা হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের স্বীকৃতি উল্লেখ করেন, যা তার দেশে ফিরে আসার মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বক্তব্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া, কূটনৈতিক মহল এবং সুশীল সমাজে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে, হোসেন এ বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই আলোচনাগুলো দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে হোসেন বেকারত্ব কমাতে, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বিদেশে কর্মরত ও কর্মপ্রত্যাশী শ্রমিকদের দক্ষ প্রশিক্ষণ দিয়ে মানবসম্পদ গঠন এবং রপ্তানি খাতের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর লক্ষ্য উল্লেখ করেন।
হোসেনের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভূগোলিক অখণ্ডতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারই দেশের অগ্রগতির মূল অনুপ্রেরণা। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি অবস্থায়ও দেশের স্বার্থে কোনো আপোষ না করার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বেগম জিয়ার পরিবারে আঘাত হানাকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি বিশ্বাসী জনগণের ওপর আঘাত হিসেবে হোসেন ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনার ফলে জাতির ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সমাবেশে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান এবং অন্যান্য দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও, হোসেনের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ঐতিহাসিক সত্তা রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান জানানো।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, যিনি দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সংযোগে হোসেনের মন্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এই ধরনের সমাবেশ ও বক্তব্যের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দলগুলো দেশের বিভিন্ন স্তরে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক বর্ণনা প্রচার, যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্প বিকাশে কাজ চালিয়ে যাবে বলে হোসেন আশাবাদ প্রকাশ করেন।



