ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে স্বাধীন প্রার্থী ও সাম্প্রতিকভাবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আজ বিকাল নির্বাচনী অফিস থেকে বেরিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন যে, তার সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই হুমকি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
আজ বিকাল নির্বাচনী অফিসের রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনার শারমিন আখতার জাহান রুমিনের নামানুসারে জমা দেওয়া প্রার্থীর নথি পর্যালোচনা করে তার নামানুসারে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। একই সময়ে মোট এগারোজন প্রার্থীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অনুমোদন জানানো হয়।
রুমিন ফারহানা জানান, তিনি সম্প্রতি কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং সেখানে তার সমর্থকরা জানিয়ে দেন যে, বিরোধী প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের হুমকি দিচ্ছেন, যদি তারা তার পক্ষে প্রচারণা চালায়। তিনি বলেন, এই ধরনের হুমকি ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে চায়।
প্রতিবাদী হুমকির মুখে রুমিন ফারহানা স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করেন যে, কোনো ধরণের হিংসা বা ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তার সমর্থকরা স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে না।
এছাড়া তিনি তার সমর্থকদের নির্দেশ দেন যে, যদি হুমকি অব্যাহত থাকে তবে তারা লিখিতভাবে পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবে। রুমিনের মতে, লিখিত নোটিশের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে।
রুমিন ফারহানা ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যা পূর্বে দলীয় কৌশলগত কারণে জোটের অংশীদারকে অর্পিত ছিল। এই আসনে সারাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা, পাশাপাশি বিজয়নগর উপজেলার বুধান্তি ও চাঁদুরা ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে বিএনপি রুমিন ফারহানা এবং সাইফুল আলম নীরবকে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে সাতজন নেতা একই কারণেই পার্টি থেকে বাদ পড়েন।
বিএনপি পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এবং নির্বাচনী কৌশল বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালানো এবং পার্টির সমন্বিত কৌশলকে অমান্য করা দলের স্বার্থের বিরোধী।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, রুমিনের অভিযোগ এবং তার সমর্থকদের ওপর হুমকি নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে, বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ অঞ্চলে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। যদি হুমকি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ভোটার অংশগ্রহণের হার কমাতে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সকল প্রার্থীর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে এবং হুমকি বা সহিংসতার কোনো রিপোর্ট পাওয়া গেলে তা তৎক্ষণাত তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রুমিন ফারহানা এই নির্দেশনার প্রতি আশাবাদী এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
ভবিষ্যতে যদি হুমকি বন্ধ না হয়, তবে রুমিনের সমর্থকরা আইনগত পথে পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা নির্বাচনী আদালতে মামলা দায়েরের রূপ নিতে পারে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষে, রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, তিনি এবং তার দলীয় সদস্যরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান, যেন হুমকি ও গুজবের বদলে ন্যায়সঙ্গত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ভোটারদের ইচ্ছা প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়।



