দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ড (সিএসএ) শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ খেলোয়াড়ের দল প্রকাশ করেছে। অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আইডেন মার্করামকে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং স্কোয়াডে সাতজন নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ দৃষ্টিনন্দন।
স্কোয়াডের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখবে সাতজন ক্রিকেটার। তারা হলেন কুয়েনা মাফাকা, করবিন বশ, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, টনি ডি জর্জি, জেসন স্মিথ, জর্জ লিন্ডা এবং ডনোভান ফেরেইরা। এই নবাগতরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনও সীমিত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে, তবে তাদের অন্তর্ভুক্তি দলকে নতুন শক্তি যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবসর থেকে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি ককও স্কোয়াডের অংশ। ডি ককের ফিরে আসা দলকে শীর্ষ স্তরের ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং বিকল্প প্রদান করবে, যা টিমের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াবে।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে ডেভিড মিলার, টনি ডি জর্জি এবং কেশব মহারাজ। মিলার ও মহারাজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে স্পিন ও পেসারদের সঙ্গে সমন্বয়, দলের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্কোয়াডের পূর্ণ তালিকায় আইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, টনি ডি জর্জি, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ডনোভান ফেরেইরা, মার্কো জানসেন, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, কুয়েনা মাফাকা, লুঙ্গি এনগিদি, জেসন স্মিথ, জর্জ লিন্ডা, করবিন বশ এবং এনরিখ নরকিয়া অন্তর্ভুক্ত।
দলটি ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে মাত্র সাত রানে হেরে হৃদয়ভঙ্গের পর পুনরায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে প্রস্তুত। পূর্ববর্তী টুর্নামেন্টে প্রোটিয়াদের শেষ মুহূর্তে হার মানা সত্ত্বেও, নতুন স্কোয়াডের সঙ্গে শিরোপা জয়কে পুনরায় লক্ষ্য করা হয়েছে।
সিএসএর এই ঘোষণা টিমের প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দলের আক্রমণাত্মক বিকল্প বাড়াবে, আর অভিজ্ঞদের উপস্থিতি ম্যাচের চাপ সামলাতে সহায়তা করবে।
টিমের কোচিং স্টাফও স্কোয়াডের গঠন নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যদিও নির্দিষ্ট উদ্ধৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তারা উল্লেখ করেছেন যে নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয় দলকে বহুমুখী করে তুলবে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সক্ষম করবে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকান দল প্রথম ম্যাচে তাদের গ্রুপের প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ের তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি প্রস্তুতিতে তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে।
দলীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্যাটিং, ফিল্ডিং এবং পেসারদের স্পিনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন মুখের জন্য আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দলীয় কৌশল শিখতে এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
সিএসএ উল্লেখ করেছে যে স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়ই ফিটনেস ও ফর্মের দিক থেকে সর্বোচ্চ মানদণ্ডে রয়েছে। নির্বাচিত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন করা হবে না বলে দল নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট ভক্তরা এখন নতুন স্কোয়াডের সঙ্গে বিশ্বকাপের পথে অগ্রসর হওয়ার অপেক্ষায়। দলটি কি পূর্বের ব্যথা ভুলে শিরোপা জয় করতে পারবে, তা সময়ই বলবে।



