পাবনা জেলা রিটার্নিং অফিসে পবিএ১ নির্বাচনের প্রার্থীর নামপত্র পর্যালোচনা শেষে বিকাল বেলায় প্রাক্তন সানথিয়া পৌরসভার মেয়র মো. মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক এবং শ্রমিক লীগ কর্মী শাহিন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। উভয়কে ডিপি অফিসের কাছাকাছি গাড়ি থেকে নামার সময় ডিটেকটিভ শাখা পুলিশ থামিয়ে নেয়।
মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক, যিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের পৌরসভার ইউনিটের সেক্রেটারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এবং শ্রমিক লীগের সক্রিয় সদস্য শাহিন হোসেন একসাথে স্বাধীন প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাঈদের সঙ্গে নামপত্র পর্যালোচনার জন্য উপস্থিত ছিলেন। নামপত্র পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর দুজনকে গাড়ি থেকে নামার সময়ই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
অধ্যাপক আবু সাঈদ, যিনি পূর্বে রাষ্ট্রমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং পাবনা-১ আসনের স্বাধীন প্রার্থী, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, মিরাজুল প্রামাণিককে প্রস্তাবকারী হিসেবে নামপত্রে যুক্ত করা হয়েছে বলেই তাকে আটক করা হয়েছে।
পাবনা ডি.বি. পুলিশ অফিসার ইন-চার্জ মো. রশিদুল ইসলাম গ্রেফতারকে নিশ্চিত করে জানান, উভয়কে পূর্বে কিছু মামলায় ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট থানা-তে প্রেরণ করা হবে।
গ্রেফতারকৃত দুজনকে একই সন্ধ্যায় পাবনা ডি.বি. অফিসে আটক রাখা হয়। পুলিশ জানায়, তাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়নি এবং তারা আইনগত অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
পাবনা-১ আসনের নামপত্র পর্যালোচনা আজ ডি.সি. অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, যা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসের কাজও করে। পর্যালোচনার ফলস্বরূপ অধ্যাপক আবু সাঈদের নামপত্র বৈধ বলে স্বীকৃত হয় এবং তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমোদন পান।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ডি.বি. অফিসের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে অথবা গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুজনকে হেফাজতে রাখা হবে।
পাবনা জেলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করছে। নামপত্রের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পরেও প্রার্থীর সহায়ক ও প্রস্তাবকারীদের ওপর তদন্ত চালিয়ে যাওয়া নির্বাচনী আইনের প্রয়োগের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রস্তাবকারী ও সহায়কদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রস্তাবকারী ও সহায়কদের পটভূমি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হবে বলে জানানো হয়েছে।



