লিডস ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ডমিনিক ক্যালভার্ট-লিউইন সাম্প্রতিক ম্যাচে ধারাবাহিক গোলের ধারায় নিজের অবস্থান মজবুত করে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছেন। শেহতীয়াই তিনি ছয়টি প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে সাতটি গোলের রেকর্ড গড়ে তুলেছেন, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নভেম্বরের শেষের দিকে লিডস ম্যানচেস্টার সিটির এতিহাদ স্টেডিয়ামে গিয়েছিল, যেখানে অর্ধেকের সময় স্কোর ২-০ সিটিতে পিছিয়ে ছিল। দলীয় ম্যানেজার ড্যানিয়েল ফার্কে তখনই কঠিন অবস্থার মুখোমুখি ছিলেন; মিডিয়া ও ভক্তদের মধ্যে তার পদত্যাগের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
বিরতির সময় ফার্কে তার ঐতিহ্যবাহী ব্যাক‑ফোর এবং একক স্ট্রাইকারের ব্যবস্থা ত্যাগ করে ৫‑৩‑২ ফরমেশন গ্রহণ করেন এবং ক্যালভার্ট-লিউইনকে দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন খেলোয়াড় হিসেবে পাঠান। এই কৌশলগত পরিবর্তনই ম্যাচের গতি পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
লিডসের মিডফিল্ডার ব্রেনডেন অ্যারনসন উল্লেখ করেন, অর্ধেকের বিরতিতে ক্যালভার্ট-লিউইন পুরো দলের মনোভাব উজ্জীবিত করে, সবাইকে আরও তীব্রভাবে খেলতে উৎসাহিত করেন। তার নেতৃত্বের স্বভাব এবং সহকর্মীদের প্রতি সমর্থন দলকে নতুন উদ্যমে চালিত করে।
কোর্টে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্যালভার্ট-লিউইন তার দ্বিতীয় লিডসের গোল করেন, যা স্কোরকে ২‑১ করে কমিয়ে দেয়। তার দ্রুত প্রতিক্রিয়া সিটিতে লিডসের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
নতুন ফরমেশন কার্যকর হওয়ায় লুকাস এনমেচা সমান স্কোর করে, তবে শেষের সময় ফিল ফোডেনের গোল সিটিকে ৩‑২ করে জয়ী করে। যদিও লিডসের পার্টি শেষ হয়, তবে দলের মনোভাব ইতিবাচক থাকে।
প্রাথমিকভাবে ফার্কের পদচ্যুতি নিয়ে আলোচনা চললেও ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে আরেকটি সুযোগ দেন, ফলে তিনি দলের কৌশলগত দায়িত্ব চালিয়ে যান। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে লিডসের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা যায়।
এক মাসেরও কম সময়ে লিডস ছয়টি ম্যাচে অজয় থাকে এবং মোট দশ পয়েন্ট সংগ্রহ করে। এই ধারাবাহিকতা দলকে টেবিলে উপরে উঠতে সাহায্য করেছে।
আগামী রবিবার লিডসের ইল্যান্ড রোডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে; এই ম্যাচটি দলীয় গতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হচ্ছে।
ক্যালভার্ট-লিউইনের আত্মবিশ্বাস তার গোলের সংখ্যা থেকে স্পষ্ট; ছয়টি খেলায় সাতটি গোলের রেকর্ড তাকে আক্রমণাত্মক দিক থেকে অপরিহার্য করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার লিভারপুলের সঙ্গে ড্র ম্যাচে একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় তার সম্ভাব্য অষ্টম গোলটি মিস হয়েছে।
বিশ্লেষকরা একমত যে শেফিল্ডে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড তার বর্তমান ফর্মকে কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করছে।



