রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলের কোরলি গ্রামে নতুন বছরের পার্টি চলাকালীন একটি হোটেল ও ক্যাফেতে ড্রোন আক্রমণ ঘটেছে, যার ফলে কমপক্ষে ২৭ জনের মৃত্যু এবং ৩০েরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। রাশিয়া-নিয়োগপ্রাপ্ত আঞ্চলিক শাসক ভ্লাদিমির স্যালডো এই ঘটনার দায়িত্ব ইউক্রেনের ওপর আরোপ করে, এবং তিনটি অমানবিক বায়ুযান (UAV) ব্যবহার করে আক্রমণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
সেই সন্ধ্যায় হোটেল ও ক্যাফে, যা পূর্বে “ইউক্রেনিয়ান হাউস” নামে পরিচিত এবং এখন “বুগানোভা’স ক্যাফে” নামে পরিচিত, তীব্র বিস্ফোরণের ফলে ছাদ ধসে পড়ে এবং কক্ষগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিগুলোতে ধসে পড়া ছাদ এবং শীটে ঢাকা মৃতদেহের দৃশ্য দেখা যায়।
সামরিক সূত্র অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে আক্রমণটি সত্যিই ঘটেছে, তবে লক্ষ্য ছিল সামরিক কর্মীসমূহের সমাবেশ, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য বন্ধ ছিল। ইউক্রেন সরকার শাসিত অঞ্চলের শাসকদের দাবি সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য না করে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নীতিমালা মেনে শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইউক্রেনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে সশস্ত্র সংঘাতে পার্থক্য করার নীতি অনুসরণ করে, যা নাগরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে স্পষ্টভাবে আলাদা করে। তবে, রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত শাসক স্যালডো দাবি করেন যে আক্রমণটি সরাসরি নাগরিকদের ওপর লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই ঘটনার তথ্য জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সূত্রের মতে, আক্রমণটি একটি সামরিক সমাবেশের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যা সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার থেকে সীমাবদ্ধ ছিল। এই বিবরণ রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত শাসকের দাবির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিশ্লেষণকে তীব্র করে তুলেছে।
ইউক্রেনের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন (UNHRC) এই ঘটনার তথ্য জানার পর ভবিষ্যতে নাগরিক ক্ষতির সত্যতা যাচাই করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। যদিও বর্তমান পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের যাচাই করা হয়নি, তবে ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
রাশিয়া তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে এই আক্রমণকে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে। তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নিউ ইয়ার পার্টি সময়ে ঘটিত এই ধরনের আক্রমণকে যুদ্ধাপরাধের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, কোরলি গ্রামে এই আক্রমণটি রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমের নতুন মাত্রা নির্দেশ করে। তারা যুক্তি দেন যে, এই ধরনের আক্রমণ উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যে ক্ষীণ হয়ে যাওয়া মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে এবং শান্তি আলোচনার জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে নাগরিক ক্ষতির রিপোর্ট আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাবে।
এই ঘটনার পর, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, কারণ উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চায়। বিশেষ করে, নিউ ইয়ার উদযাপনের সময়ে ঘটিত এই আক্রমণটি মানবিক দিক থেকে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারসংক্ষেপে, কোরলি গ্রামে ড্রোন আক্রমণ, যার ফলে ২৭ জনের বেশি মৃত্যু এবং ৩০েরও বেশি আহত হয়েছে, রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত শাসক ও ইউক্রেনের মধ্যে তথ্যের পার্থক্যকে উন্মোচন করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে মানবিক আইনের প্রয়োগ, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সংঘাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।



