ঢাকা – প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় শুক্রবার তার সরকারি ফেসবুক পেজে গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত একটি তথ্যবহুল লিফলেট প্রকাশ করে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। লিফলেটের শিরোনাম “গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন-দেশের চাবি আপনার হাতে” এবং এতে “হ্যাঁ” ও “না” ভোটের ফলাফল কী হবে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
লিফলেটের প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিলে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) একত্রে কাজ করবে। এতে সরকার স্বেচ্ছায় সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না, এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরাসরি গণভোটের বিধান প্রয়োগ হবে।
বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য লিফলেটের মধ্যে বলা হয়েছে যে, গণভোটের ফলস্বরূপ ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্তই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তার পরের সময়ে অন্য কেউ শীর্ষে আসবে।
লিফলেটের আরেকটি ধারায় নারী প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষের গঠন এবং বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মৌলিক অধিকার যেমন ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ না করা, রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে ক্ষমা না করা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সমতা বজায় রাখার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
লিফলেটের শেষে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “হ্যাঁ” ভোট দিলে উপরে উল্লিখিত সব সুবিধা পাবেন, আর “না” ভোট দিলে কোনো পরিবর্তন হবে না। পরিবর্তনের চাবি এখন নাগরিকের হাতে রয়েছে, এই বার্তাটি জোর দিয়ে বলা হয়েছে। লিফলেটের নিচে আরও তথ্যের জন্য www.gonovote.gov.bd এবং www.gonovote.bd ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এই প্রচার কার্যক্রমের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, “গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, ঢাকা”। এটি সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে গণভোটের গুরুত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে জানাতে একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী, লিফলেটের কিছু ধারাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানিক পরিবর্তন সহজে করা হলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং কিছু ধারার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। এদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এই উদ্বেগগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে যে, গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত হবে এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
গণভোটের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে লিফলেটের মাধ্যমে প্রকাশিত নীতিগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকার-বিরোধী দলের সহযোগিতা, নারী প্রতিনিধিত্বের বৃদ্ধি এবং উচ্চকক্ষের গঠন ইত্যাদি বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবহার কীভাবে দেশের আইনি কাঠামোকে প্রভাবিত করবে, তা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
গণভোটের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, প্রধান উপদেষ্টার অফিস বিভিন্ন শহরে তথ্যবহুল সেমিনার ও বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য জনগণকে ভোটের গুরুত্ব ও ফলাফল সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভোটের সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।
গণভোটের সময়সূচি ও ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও লিফলেটের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। ভোটারদেরকে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই ভোটের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হবে এবং ভোটের ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এই প্রচারমূলক লিফলেট গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত মূল নীতিগুলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছে এবং ভোটারদেরকে “হ্যাঁ” বা “না” ভোটের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছে। ভবিষ্যতে গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে কীভাবে পরিবর্তন করবে, তা ভোটের পরই স্পষ্ট হবে।



