20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিসিসিআই নিশ্চিত করেছে, মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল অংশগ্রহণে কোনো সরকারি আপত্তি নেই

বিসিসিআই নিশ্চিত করেছে, মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল অংশগ্রহণে কোনো সরকারি আপত্তি নেই

ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিসিসিআই) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি বা নিষেধাজ্ঞা প্রকাশিত হয়নি। এই বিবৃতি শুক্রবার প্রকাশিত এনডিটিভি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয় এবং আইপিএল-এ বিদেশি খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের জন্য সরকারী অনুমোদন নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে, বর্তমান পর্যন্ত কোনো বাধা না থাকায় মুস্তাফিজুরের অংশগ্রহণে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।

বিসিসিআই স্পষ্ট করে বলেছে, বিদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএল-এ অংশ নিতে হলে ভারতীয় সরকার থেকে অনুমোদন পেতে হয়, যা নিয়মিত এবং বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এই বছরের নিলামে মোট সাতজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র মুস্তাফিজুর রহমানকে দলটি বেছে নেয়। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির রেকর্ড মূল্যে দলে অন্তর্ভুক্ত করে, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আইপিএল খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য।

মুস্তাফিজুরের এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরই কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিতর্কের স্রোত শুরু হয়। ভারতের স্বীকৃত আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর কেকেআর এবং দলের মালিক শাহরুখ খানকে সমালোচনা করে জানান, একটি বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তার মন্তব্যের ফলে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সমর্থক ও বিরোধী উভয় দিকের মতামত প্রকাশ পায়।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে আসে। কিছু নেতা ক্রীড়া ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা থেকে আলাদা রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেন, অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষার দাবি তোলেন। তবে, বিসিসিআই এখনও সরকারী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে এবং স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা না এলে, নিলামে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না।

মুস্তাফিজুরের আইপিএল ক্যারিয়ার ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সঙ্গে শুরু হয়, এরপর তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস এবং চেন্নাই সুপার কিংসের মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন। তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তিনি ৬০টি আইপিএল ম্যাচে ৬৫টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন এবং তার ইকোনমি রেট ৮.১৩। এই পরিসংখ্যান তাকে আইপিএল-এ সবচেয়ে কার্যকরী বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে একটিতে স্থান দিয়েছে।

গত মৌসুমে তিনি ইনজুরি আক্রান্ত জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের পরিবর্তে দিল্লি ক্যাপিটালসে ফিরে আসেন এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওভারগুলো সম্পন্ন করেন। সেই সময়ে তার পারফরম্যান্স দলকে মাঝারি চাপের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। যদিও তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠে না থেকেও দলকে সমর্থন জানিয়েছেন, তবে তার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা নতুন মৌসুমে কেকেআরের পেসিং আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিসিসিআইয়ের স্পষ্টীকরণে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারী অনুমোদন পাওয়া পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে বাধা নেই এবং বর্তমান নীতি অনুসারে সব বিদেশি খেলোয়াড়কে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে। তাই, মুস্তাফিজুরের আইপিএল-এ অংশগ্রহণের জন্য কোনো আইনি বাধা না থাকায় তিনি পুরো মৌসুম জুড়ে কেকেআরের সঙ্গে খেলতে পারবেন। সংস্থা এই বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো নতুন নির্দেশনা এলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাবে।

কেকেআরের দল ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে মুস্তাফিজুরের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর তার প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা এবং ম্যাচের ভূমিকা নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। দলের কোচিং স্টাফ তার বোলিং স্ট্র্যাটেজি এবং ফিল্ডিং দক্ষতা উন্নত করার জন্য বিশেষ সেশন পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, তার উপস্থিতি দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, বিশেষ করে পেসিং বিভাগে গভীরতা যোগ করার ক্ষেত্রে।

মুস্তাফিজুরের আইপিএল-এ ফিরে আসা বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের জন্যও একটি বড় আনন্দের বিষয়। তার পূর্বের পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাকে দেশের তরুণ পেসারদের জন্য রোল মডেল করে তুলেছে। এই মৌসুমে তার পারফরম্যান্স কেমন হবে তা নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা উচ্চ, এবং তিনি নিজের দক্ষতা দিয়ে দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে চান।

বিসিসিআই এবং ভারতীয় সরকার উভয়ই স্পোর্টসকে শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গত পরিবেশে পরিচালনা করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ক্রীড়া ক্ষেত্রের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা উচিত। এই নীতিমালা অনুসরণে ভবিষ্যতে অনুরূপ বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

সারসংক্ষেপে, মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল-এ অংশগ্রহণে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি আপত্তি নেই, এবং তিনি ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির রেকর্ড মূল্যে কেকেআরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের সাফল্য দলকে নতুন শক্তি যোগাবে, যদিও ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু সমালোচনা রয়েছে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারী নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তিনি পুরো মৌসুমে খেলতে পারবেন, এবং তার পারফরম্যান্স আইপিএল-এ বাংলাদেশি ক্রিকেটের অবস্থানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments