গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, ৮৮ বছর বয়সে ফুসফুসের সমস্যার কারণে গুরুতর অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি কার্যটি শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে সম্পন্ন হয়।
ড. হোসেন দেশের সংবিধান প্রণয়নে ১৯৭২ সালে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং দীর্ঘকাল ধরে আইন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃত। তিনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় ড. হোসেনের শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা দেখা দেয় এবং চিকিৎসা দল তাকে তীব্র পর্যবেক্ষণের অধীনে রাখে। স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, রোগীর ফুসফুসের অবস্থা গুরুতর এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ড. হোসেনের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানান, তিনি বর্তমানে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন এবং দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশের সকলের দোয়া কামনা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ড. হোসেনের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা শেয়ার করা হবে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন পক্ষ ড. হোসেনের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা রোগীর দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে, দেশের সংবিধানিক ঐতিহ্যের রক্ষককে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ড. হোসেনের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।
ড. হোসেনের সংবিধানিক অবদান দেশের রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর ভিত্তি গড়ে তুলতে অপরিহার্য বলে বিবেচিত। তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করে, মৌলিক অধিকার, শাসনব্যবস্থা এবং সংবিধানিক নীতিমালা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার কাজের ফলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।
সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে ড. হোসেন বহু বছর ধরে আইনজীবী, লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারী নীতি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণমূলক রচনা প্রকাশ করেছেন, যা দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। তার বয়স সত্ত্বেও তিনি জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বর্তমান সময়ে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ড. হোসেনের দীর্ঘায়ু ও সক্রিয়তা দেশের সংবিধানিক সংস্কার, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। তার অসুস্থতা রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমবেদনা ও সমর্থনের প্রকাশ ঘটিয়েছে।
ড. হোসেনের পরিবার ও সহকর্মীরা রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি নিয়ে আশাবাদী এবং চিকিৎসা দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাকে হাসপাতালে থেকে ছাড়ার পরিকল্পনা করা হবে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা দলের মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল।
ড. হোসেনের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করছে। রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি জনসাধারণকে সঠিক তথ্য প্রদান করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা ড. হোসেনের স্বাস্থ্য অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং জনগণের কাছ থেকে সমর্থন ও দোয়া কামনা করেছে। তার দ্রুত আরোগ্যই দেশের সংবিধানিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ড. কামাল হোসেনের বর্তমান অবস্থার ওপর নজর রাখার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের মূল্যায়নও চলবে। তার সুস্থতা নিশ্চিত হলে, তিনি আবারও দেশের সংবিধানিক ও আইনি আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে জাতি তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য একত্রিত হয়েছে।



