20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষামাধ্যমিক বৃত্তি সংখ্যা ২০ % বাড়বে, আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণের প্রস্তাব অনুমোদনের পথে

মাধ্যমিক বৃত্তি সংখ্যা ২০ % বাড়বে, আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণের প্রস্তাব অনুমোদনের পথে

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা ২০ % বৃদ্ধি এবং বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদানকে বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে অর্থ বিভাগে পাঠিয়ে বাজেট বরাদ্দের জন্য অনুমোদন নেওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান উল্লেখ করেছেন, মাউশি থেকে প্রাপ্ত এই প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। তিনি জানান, বৃত্তির সংখ্যা ও আর্থিক পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা শীঘ্রই চূড়ান্ত রূপ নেবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

প্রস্তাবের পেছনে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাউশির প্রাক্তন মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান স্বাক্ষরিত একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০১৫‑১৬ অর্থবছরের পর থেকে বৃত্তির হার নয় বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই নথিতে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে বৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

মাউশির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি সংক্রান্ত কার্যবিবরণীর অনুচ্ছেদ ৬.০ (৬.২) অনুসারে বৃত্তির সংখ্যা, আর্থিক পরিমাণ এবং সম্ভাব্য বাজেটের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এই খসড়া শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা এবং এককালীন অনুদান উভয়ই বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে তৈরি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নানও প্রস্তাবের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বৃত্তির আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথে আর্থিক বাধা কমিয়ে গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে। প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে তা অর্থ বিভাগে পাঠিয়ে বাজেট নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হবে; বাজেট নিশ্চিত হওয়ার পরই বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর কাজ কার্যকর করা হবে।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং ঝরে পড়া রোধ করা। অতিরিক্ত ২০ % বৃত্তি বৃদ্ধি এবং দ্বিগুণ আর্থিক সহায়তা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা জাল তৈরি করবে, যা বিশেষত নিম্নমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যে সম্ভাব্য আর্থিক প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করে রয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর, বৃত্তির সংখ্যা এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুতই এই সুবিধা পেতে পারে।

শিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃত্তির আর্থিক সহায়তা বাড়ানো শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ জাগ্রত করার একটি কার্যকর উপায়। তবে বাস্তবায়নের সময় সময়মত তথ্যপ্রকাশ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে আবেদন করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।

আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা বৃত্তি সংক্রান্ত তথ্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ নোটিশ এবং আবেদন ফরম দেখতে পারেন। এছাড়া, আপনার স্কুলের শিক্ষাবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃত্তির শর্তাবলী এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments