ইরানের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহিরের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা এক বছরের কারাদণ্ডের আপিলের শুনানি ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে টেহরানের বিপ্লবী আদালতের ২৬ নং শাখা নির্ধারণ করেছে। আদালত এই শোনার তারিখ নির্ধারণের আগে, ডিসেম্বরে পানাহিরকে ‘শাসনের বিরোধী প্রচার কার্যক্রম’ করার অভিযোগে অনুপস্থিতিতে এক বছরের কারাদণ্ড এবং দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আর রাজনৈতিক-সামাজিক গোষ্ঠীতে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
ডিসেম্বর ১ তারিখে টেহরানের বিপ্লবী আদালত পানাহিরের বিরুদ্ধে এই শাস্তি প্রদান করে, যা তার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে। শাস্তির মধ্যে এক বছরের জেলখানা, দুই বছরের বিদেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আইনজীবী মোস্তফা নিলি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, পানাহিরের আপিলের শুনানি ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, তবে তিনি এখনও নিশ্চিত করেননি যে পরিচালক নিজে শোনায় উপস্থিত হবেন কিনা। নিলি এই তথ্য প্রকাশের পরেও অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করেননি।
পানাহিরের সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে পার্লে ডি’ওর সেরা পুরস্কার জিতেছে। এই থ্রিলারটি এক প্রাক্তন রাজনৈতিক বন্দীর গল্প বলে, যিনি নিজেকে নির্যাতনকারী বলে সন্দেহ করা এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে এবং অন্যান্য বিরোধীদের সঙ্গে তার জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত—মারা যাবে নাকি ক্ষমা করা হবে—নিয়ে আলোচনা করেন।
এই চলচ্চিত্রটি ইরানের স্বৈরশাসক শাসনের সরাসরি সমালোচনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং তাই সরকারী নজরে এসে পড়ে। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও প্রকাশনা উভয়ই ইরানের কর্তৃপক্ষের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়, যা পরে পানাহিরের ওপর আইনি পদক্ষেপের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালে, পানাহিরকে ইভিন কারাগারে আটক করা হয়, যখন তিনি একই বছরের অন্য এক ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রাসুলফের সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য প্রসিকিউটরের অফিসে গিয়েছিলেন। রাসুলফও তখনই সরকারের নীতির বিরোধী প্রতিবাদে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই তদন্তমূলক পদক্ষেপই পানাহিরের গ্রেফতারকে ত্বরান্বিত করে।
অধিকাংশ সময়ের পর, ২০২৩ সালে পানাহির হাংরি স্ট্রাইকের মাধ্যমে মুক্তি পান। তার এই আত্মত্যাগী প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমর্থন অর্জন করে।
পানাহিরের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে অ্যান্টি-গভর্নমেন্ট কার্যকলাপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও, সেই শাস্তি তখন কার্যকর করা হয়নি। তবে ২০২২ সালের গ্রেফতারকে ভিত্তি করে আদালত ২০১০ সালের দণ্ডকে পুনরায় প্রয়োগ করে, যদিও পরে আদালত সিদ্ধান্ত দেয় যে দীর্ঘ সময়ের বিলম্বের কারণে সেই দণ্ড আর কার্যকর করা যায় না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পানাহিরের আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে, এবং তার ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি কীভাবে প্রভাবিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তার কাজের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন তার শিল্পের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে।



