লন্ডনের ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড ক্লাব নুনো এস্পিরিটো সান্তোর নেতৃত্বে দুইজন ফরোয়ার্ডকে নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। গিল ভিসেন্টের পাব্লো ফেলিপে এবং ইতালির লাজিওতে খেলোয়াড় তাতি ক্যাস্টেলানোসকে মোট প্রায় ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ডে দলটি অর্জন করবে। এই পদক্ষেপগুলো ক্লাবের প্রিমিয়ার লীগ বেঁচে থাকার লড়াইকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
পাব্লোর জন্য চুক্তি ১৮.৩ মিলিয়ন পাউন্ডের মূলধন এবং অতিরিক্ত ২.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের পারফরম্যান্স বোনাস নিয়ে গঠিত। ২১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গিল ভিসেন্টের সঙ্গে চতুর্থ স্থান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যেখানে সে নৌবহরের মতো নয়, নয়টি গোল করে দলকে শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। ক্লাবের সূত্র অনুযায়ী পাব্লো শীঘ্রই পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাবে, যা তার ইউরোপীয় কাজের অনুমতি সহজ করবে।
ক্যাস্টেলানোসের জন্য ওয়েস্ট হ্যাম ২৬.১ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি করেছে। লাজিও থেকে আসা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারটি ইতিমধ্যে ইউরোপীয় লিগে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং তার গতি ও গোল করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশংসা পেয়েছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি আক্রমণাত্মক বিকল্প বাড়াতে পারবে, যা বর্তমানে ১৮তম স্থানে থাকা ক্লাবের জন্য জরুরি।
দুইটি চুক্তি একত্রে প্রায় ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ডের সমান, যা নুনোর পরিকল্পনায় বড় আর্থিক বিনিয়োগকে নির্দেশ করে। নুনো এস্পিরিটো সান্তো, যিনি দলের কৌশলগত দিকের দায়িত্বে আছেন, তিনি বলছেন যে অতিরিক্ত গতি ও গোলের ক্ষমতা দলকে লিগে বেঁচে রাখতে সহায়তা করবে।
ওয়েস্ট হ্যাম পূর্বে ওলভসের জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনকে লক্ষ্য করেছিল, তবে তার ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের মূল্যায়ন ক্লাবের জন্য বেশি হয়ে যাওয়ায় অফার প্রত্যাহার করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পরে পাব্লো এবং ক্যাস্টেলানোসের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া হয়, যাতে ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষের আগে দলটি নতুন আক্রমণাত্মক বিকল্প পায়।
এছাড়া, ক্লাবটি ফালহামের উইং অ্যাডামা ত্রোরের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদী চুক্তি করার চেষ্টা করছে, যিনি মৌসুমের শেষে চুক্তি শেষ করবেন। একই সময়ে চেলসির রাহিম স্টার্লিংকে ঋণ দিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, কারণ স্টার্লিং নিজে এই অস্থায়ী স্থানান্তর তার ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক হবে না বলে মনে করেন। ফালহাম স্টার্লিংয়ের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে।
দলটি বর্তমানে ১৮তম স্থানে রয়েছে এবং ফরোয়ার্ডের ঘাটতি অনুভব করছে। নিক্লাস ফুলক্রুগ ইতিমধ্যে মিলানে ঋণ নিয়ে চলে গেছেন, ফলে কলাম উইলসন এখন একমাত্র অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হিসেবে অবশিষ্ট। এই পরিস্থিতি নুনোর নতুন সাইনিংগুলোকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
পাব্লোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ক্লাবের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তবে তার ইংলিশ গেমে অভিযোজনের প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। প্রিমিয়ার লীগে শারীরিকতা ও গতি বেশি, তাই পোর্টুগিজ লিগে অর্জিত সাফল্য সরাসরি স্থানান্তর হবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।
পাব্লোর এজেন্ট জর্জে মেন্ডেস, যিনি নুনোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন, তিনি এই চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মেন্ডেসের নেটওয়ার্ক এবং ক্লাবের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি একসঙ্গে কাজ করে এই দুইটি ট্রান্সফারকে বাস্তবায়ন করেছে।
ওয়েস্ট হ্যাম এছাড়াও ভিক্টোরিয়া প্লজেনের রাফিউ দুরোসিনমি এবং চেক ক্লাবের ক্রিস্টা সহ অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলো বিবেচনা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত পাব্লো ও ক্যাস্টেলানোসের চুক্তি অগ্রাধিকার পেয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো ক্লাবের বর্তমান আক্রমণাত্মক ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, নুনো এস্পিরিটো সান্তোর তত্ত্বাবধানে ওয়েস্ট হ্যাম দুইজন তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা দলকে প্রিমিয়ার লীগে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আক্রমণাত্মক শক্তি যোগাবে। ভবিষ্যতে এই দুই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ক্লাবের লিগে অবস্থান রক্ষায় মূল ভূমিকা রাখবে।



