বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের ব্রিফিং রুমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয়ে মন্তব্য করেন, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের মতে, বেগম জিয়া “গণতন্ত্রের মা” হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার অবদান কোনো প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। তিনি বলেন, “যে নেত্রী সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন, তিনি চলে গেছেন; এই ক্ষতি জাতি পূরণ করতে পারবে না।” এ কথা তিনি এভারকেয়ারের ব্রিফিং রুমে উপস্থিত সাংবাদিক ও পার্টি নেতাদের সামনে জানান।
বেগম জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের আশাবাদ ছিল। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, “আমরা আবারও আশা করছিলাম আগের মতো তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন,” তবে শেষ পর্যন্ত তার স্বাস্থ্য অবনতির ফলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিএনপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, যার মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবীর রিজভী, ডা. এ. জে. এম. জাহিদ হোসেন, হাবীবুন নবী খান সোহেল, ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার এবং বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। সকলেই শোক প্রকাশের পাশাপাশি পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে সঙ্গে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসও বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে ফোনে জানিয়ে দেন যে, সরকার সকাল ১০টায় ক্যাবিনেট মিটিংয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার বিষয়টি আলোচনা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “তারা সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়েছেন; আমরা পরে সেসব কর্মসূচি জানিয়ে দেব।” এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার বেগম জিয়ার অবদানকে সম্মান জানাতে চায়।
ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় সরকারী কর্মকর্তারা বেগম জিয়ার দেহান্তিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় শোকের সময়কাল এবং পার্টি ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি দল এখন শোকের ছায়ায় রয়েছে, তবে একই সঙ্গে পার্টির নেতৃত্বের ঘাটতি মোকাবিলার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে। মির্জা ফখরুলের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বেগম জিয়ার অনুপস্থিতি পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও বাহ্যিক সমর্থনে বড় প্রভাব ফেলবে।
বেগম জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আবার প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাংলাদেশের আধুনিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তার মৃত্যুর পর, তার উত্তরসূরি ও পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্ন তীব্রভাবে উত্থাপিত হবে।
বিএনপির অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট উত্তরাধিকারী ঘোষিত হয়নি। তবে মির্জা ফখরুলের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলটি শীঘ্রই নতুন নেতৃত্ব গঠনের দিকে মনোযোগ দেবে। পার্টির মূল কাঠামো ও সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবশ্যই, বেগম জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক সমতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। তার দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক উপস্থিতি এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতিহাসকে বিবেচনা করলে, তার অনুপস্থিতি রাজনৈতিক আলোচনার ধরণে পরিবর্তন আনতে পারে।
বিএনপি ও সরকার উভয়ই বেগম জিয়ার অবদানকে সম্মান জানাতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শোকের সময়কাল ও আনুষ্ঠানিক দাফন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, বেগম জিয়ার মৃত্যু একটি যুগের সমাপ্তি নির্দেশ করে এবং নতুন রাজনৈতিক গতিপথের সূচনা হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা কোনো অনুমান না দিয়ে, কেবলমাত্র ঘটনার বাস্তব তথ্য উপস্থাপন করছেন।
বিএনপির ভবিষ্যৎ কৌশল, পার্টির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন এবং সরকারী শোকের ব্যবস্থা এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে। বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী পরিবর্তন আসবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



