বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু ২ জানুয়ারি শুক্রবার চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর স্মরণে আয়োজন করা এই সমাবেশে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ধর্ম, জাতি ও বর্ণের কোনো বৈষম্য না থাকার লক্ষ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।
বক্তৃতার সূচনায় আমীর খসরু উল্লেখ করেন যে, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যে রঙিন, সমন্বিত জাতি কল্পনা করেছিলেন, তা ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে চিহ্নিত। তিনি বলেন, রঙের মিশ্রণে রংধনু গঠনের মতোই, বিভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষ একত্রে গড়ে তুলতে হবে দেশের ভবিষ্যৎ।
এরপর তিনি বিএনপির লিবারেল গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দেন, প্রত্যেক নাগরিক তার ধর্মীয় অনুশীলন স্বাধীনভাবে চালিয়ে যাবে, তবে রাষ্ট্রের কাজ হবে সকলের জন্য সমান ও নিরপেক্ষ। এই নীতির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সমাজ গড়া সম্ভব হবে, এটাই তাদের লক্ষ্য।
বাংলাদেশের অতীতের অস্থিরতা ও সংকটের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে সকলকে একত্রিত করে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ার। তিনি নাগরিক অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, তা না হলে দেশের উন্নয়ন থেমে যাবে।
ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর অবদানের কথা স্মরণে তিনি যোগ করেন, সমগ্র জীবনে তিনি সমতা, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ হিসেবে রয়ে যাবে। তার দর্শনকে ভিত্তি করে নতুন জাতি গঠনের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে, তিনি বলেন।
বক্তৃতার শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে কোনো ধরনের বৈষম্যকে স্থান থাকবে না। যদিও দেশের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী বর্তমানে উপস্থিত নেই, তবু তার আদর্শ ও চেতনা পথপ্রদর্শক হবে, তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চট্টগ্রাম‑৯ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ানও বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি।
ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবক ছিলেন। তার দেহধাতু রাউজানের বিনাজুরী শ্মশানবিহারে সমাহিত হবে।
বিএনপির এই বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দলটি ধর্ম‑জাতি‑বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও জাতিগত গোষ্ঠীর সমর্থন জোরদার করতে।
অন্যদিকে ruling party আওয়ামী লীগ, যার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, একই সময়ে জাতীয় ঐক্য ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে বিএনপির এই নতুন রেটোরিককে সরকারী নীতি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি বিএনপি এই অন্তর্ভুক্তিমূলক মঞ্চকে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তবে আসন্ন নির্বাচনে এটি ভোটারদের মধ্যে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তবায়নের জন্য দলকে নীতি-নির্ধারণে স্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, আমীর খসরু এবং অন্যান্য বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে দেখা যায়, তারা একটি বৈচিত্র্যময়, সমানাধিকারভিত্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অগ্রসর। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।



