লেই‑অন‑সী, এসেক্সের ১৭ বছর বয়সী এক তরুণ জিমনাস্ট ডেভিড হোলমস, হ্যারি পটার সিরিজের প্রধান চরিত্রের স্টান্ট ডাবল হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ড্যানিয়েল র্যাডক্লিফের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যগুলো সম্পাদন করতেন, যার ফলে চলচ্চিত্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি, সপ্তম ছবির শ্যুটিং চলাকালে হোলমসকে একটি হর্সেসে টেনে নেওয়া হয়, যার ফলে তার গলা চরমভাবে মোচড়ায় এবং তিনি ২৪ বছর বয়সে সম্পূর্ণ প্যারালাইসিসে ভুগতে শুরু করেন।
হোলমসের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল স্থানীয় জিমনাস্টিক ক্লাবে, যেখানে তার চটপটে দক্ষতা এবং ঝুঁকি নিতে ইচ্ছা তাকে চলচ্চিত্র শিল্পে নিয়ে আসে। হ্যারি পটার সিরিজে তিনি প্রথমবারের মতো কুইডডিচের দৃশ্যগুলোতে ঝাড়ুতে চড়ে কাজ করেন, যা তার জন্য একটি স্বপ্নের মতো ছিল। তার কাজের মধ্যে হ্যারি ও সাপের লড়াইয়ের দৃশ্যও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি দৃশ্যের মাঝখানে দেয়ালে আঘাত পান এবং শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায়ও গলা ভাঙার অনুভূতি পায়। এই ঘটনার পরেও তিনি সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন এবং জানতেন যে তার গলা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ডেভিডের জীবনে এক দশকের মতো সময় হারিয়ে যায়, তবে তিনি কোনো রকম ঘৃণা বা দোষারোপে লিপ্ত হন না। তিনি স্বীকার করেন যে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিয়েছেন এবং যদিও দুর্ঘটনা তার দোষে না, তবু তা তার পছন্দের ফল। তার পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল তার শারীরিক কষ্টের সঙ্গে মানসিক কষ্টের সমন্বয়, যা তাদেরকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছিল। তবু হোলমস বলেন, তিনি তার কাজকে গল্পের অগ্রগতি হিসেবে দেখেন এবং হ্যারি পটারকে মানুষের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
হ্যারি পটার সিরিজের ভক্তদের জন্য এই চলচ্চিত্রগুলো একটি সান্ত্বনা ও সংযোগের সেতু হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সংঘাত চলছে সেখানে ফোনে এই গল্পগুলো দেখার মাধ্যমে শিশুরা নিরাপত্তা অনুভব করে। ডেভিডের মতে, এই সিরিজের মাধ্যমে পরিবারগুলো একসাথে সময় কাটাতে পারে এবং মানসিক শান্তি পায়। তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন যে গল্পের শক্তি কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, যা তার নিজের জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোকে সামলাতে সাহায্য করেছে।
ড্যানিয়েল র্যাডক্লিফের সঙ্গে ডেভিডের বন্ধুত্বও তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কটি শুধুমাত্র কাজের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে পারস্পরিক সমর্থন ও বোঝাপড়া তৈরি করেছে। হোলমসের মতে, র্যাডক্লিফের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং তার আত্মবিশ্বাসকে পুনর্নির্মাণে সহায়তা করেছে। এছাড়া, হ্যারি পটার অডিওবুকের নতুন ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি আবারও সিরিজের অংশ হতে পেরেছেন, যা তার জন্য একটি নতুন সৃজনশীল সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।
ব্যক্তিগত জীবনে ডেভিডের সঙ্গে রোজি নামের এক নারী রয়েছে, যিনি তিন বছর আগে তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং একই সময়ে কোয়াড্রিপ্লেজিক অবস্থায় ছিলেন। রোজি এবং ডেভিডের সম্পর্কটি দুজনের জন্যই পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে হ্যারি পটার চলচ্চিত্রগুলো রোজির কঠিন সময়ে সান্ত্বনা এনে দিয়েছিল। ডেভিডের মতে, তার গলা ভাঙা ঘটনার ফলে তিনি রোজির সঙ্গে পরিচিত হন, যিনি এখন তার জীবনের সঙ্গী এবং তাকে পুরুষত্বের অনুভূতি পুনরায় জাগিয়ে তুলেছেন।
ডেভিড হোলমসের জীবনের এই পর্যায়ে তিনি এখনও আত্মবিশ্বাসী যে তার ব্যক্তিত্বে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার কাজের মাধ্যমে তিনি যে গল্পগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছেন, সেগুলো মানুষের জন্য একটি উপহার এবং তিনি তা নিয়ে গর্ববোধ করেন। ভবিষ্যতে তিনি অডিওবুক এবং অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে গল্প বলার কাজে অবদান রাখতে চান, যাতে আরও বেশি মানুষকে সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণা প্রদান করা যায়। তার মতে, গল্পের শক্তি মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এই শক্তি তার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।



