জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সম্পদ সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাখিল করা স্বীকৃতি পত্রে দেখা যায়, গত দশকে তার নগদ এবং চলমান সম্পদের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। একই সময়ে তিনি রংপুর‑৩ (রংপুর সদর ও সিটি কর্পোরেশনের কিছু অংশ) থেকে পুনরায় জায়গা দখল করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্বীকৃতি পত্রে কাদেরের পেশা “রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রী শারিফা কাদেরের পেশা “গায়িকা ও ব্যবসায়ী” হিসেবে তালিকাভুক্ত। উভয়ের সম্পদ বিবরণে নগদ, যানবাহন, এবং অস্থাবর সম্পত্তি আলাদা করে দেখানো হয়েছে।
কাদেরের নগদ সম্পদের পরিমাণ ১৩তম নির্বাচনের সময় ৬০,৩২,৪০৫ টাকা রেকর্ড হয়েছে। একই পত্রে ১২তম নির্বাচনের সময় তার নগদ ৪৯,৮৮,২৫৩ টাকা এবং ১১তম নির্বাচনের সময় মাত্র ১৪,৪৭,৯৭৩ টাকা ছিল। এই সংখ্যা থেকে স্পষ্ট হয়, এক দশকের কম সময়ে তার নগদ সম্পদ চারগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শারিফা কাদেরের নগদ সম্পদে সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়। দুই বছর আগে তার নগদ ৫৯,৫৯,৫৬৩ টাকা ছিল, যা বর্তমানে ৪৮,৯০,৯৩৮ টাকায় নেমে এসেছে। তবে ১১তম নির্বাচনের সময় তার নগদ ২৭,৬৪,৭০১ টাকা ছিল, যা তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে কাদেরের বর্তমান গাড়ির মূল্য ৮৪,৯৮,৪৭৫ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রীর গাড়ির মূল্য ৮০ লক্ষ টাকা, এবং দুই বছর আগে দাখিল করা স্বীকৃতি পত্রে একই মূল্য দেখানো হয়েছে, ফলে যানবাহনের মূল্যে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে কাদেরের কোনো কৃষিজমি নেই, তবে লালমনিরহাট ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি রয়েছে। তার বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১,৫৯,৫০,০০০ টাকা, আর শারিফার ঢাকা ভিত্তিক বাড়ির মূল্য ৭০ লক্ষ টাকা। দুজনের মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য দুই কোটি টাকার বেশি।
কাদের ১২তম জাতীয় নির্বাচনে রংপুর‑৩ থেকে নির্বাচিত হন, যদিও ঐ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক রয়ে গিয়েছিল। এখন তিনি একই এলাকা থেকে আবার প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন, যা তার রাজনৈতিক ভিত্তি পুনরায় শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিপক্ষ দলগুলো কাদেরের সম্পদ বৃদ্ধির গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দলগুলো দাবি করে, স্বল্প সময়ে নগদ ও সম্পদের এমন দ্রুত বৃদ্ধি স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আরও তদন্তের প্রয়োজন। তারা উল্লেখ করেছে, ভোটারদের কাছে সম্পদ প্রকাশের স্বচ্ছতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই সম্পদ প্রকাশনা নির্বাচনী প্রচারণার সময় কাদেরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের একটি হাতিয়ার হতে পারে। ভোটাররা যদি সম্পদের বৃদ্ধি এবং তার উৎস সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন, তবে তা তার ভোটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, কাদেরের সমর্থকরা এটিকে তার ব্যবসায়িক দক্ষতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সূচক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন।
জাতীয় পার্টি এই তথ্যকে স্বচ্ছতা প্রদর্শনের একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়েছে। পার্টির মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, স্বীকৃতি পত্রে প্রকাশিত তথ্যই সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার মানদণ্ড এবং তা ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।
অবশেষে, রংপুর‑৩ থেকে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল কাদেরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যের আলোকে ভোটারদের সিদ্ধান্ত কীভাবে গঠিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।



