১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবারের রাতের দিকে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি লবণবাহী নৌকা অজানা একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। নৌকার নাম এমভি দিলোয়ারা-৩ এবং এতে ৩০০ মণ লবণ লোড ছিল। ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও নৌকা প্রায় ৯৫ শতাংশ ডুবে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে।
সেই রাতের সময় মেঘনা নদীর মাঝখানে ঘন কুয়াশা দেখা গিয়েছিল, ফলে নৌকা চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। মাঝি ও শ্রমিকদের মতে, কুয়াশার কারণে নৌকা স্থির অবস্থায় থাকলেও অজানা একটি কার্গো জাহাজ হঠাৎ নৌকার পাশে আঘাত করে।
ধাক্কা পাওয়ার পর নৌকায় দ্রুত পানি ঢোকার লক্ষণ দেখা যায় এবং নৌকার একপাশ ফেটে যায়। পানির প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, ফলে নৌকার বেশিরভাগ অংশ পানিতে ডুবে যায়।
মাঝি ও অন্যান্য শ্রমিকরা তৎক্ষণাৎ নৌকা থেকে অন্য নৌকে সরে নিরাপদ তীরে পৌঁছায়। কেউই আঘাত পায়নি এবং সব কর্মী নিরাপদে তীরে অবতরণ করে।
মাঝি মো. বিল্লাহ হোসাইন জানান, গতকাল সকালে কুতুবদিয়া থেকে লবণ লোড করে চট্টগ্রাম চ্যানেল দিয়ে যাত্রা শুরু করা হয়। ভোলার মেঘনা নদী দিয়ে খুলনার দিকে যাওয়ার পথে অচেনা একটি কার্গো জাহাজ নৌকাটিকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কা পাওয়ার ফলে নৌকার একপাশ ফাটে এবং দ্রুত ডুবে যায়। হোসাইন উল্লেখ করেন, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার ফলে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা মালিক ও শ্রমিকদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতি।
ভোলা সদর ইলিশা নৌ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আশিকুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে কোনো অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে জাহাজের মালিক ও চালকের দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলমান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জাহাজের রেজিস্ট্রেশন ও নেভিগেশন রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে।
এই ঘটনার ফলে নৌকা মালিকের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও স্থানীয় নৌচালকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশা ও অপ্রতিবন্ধক নৌকা চলাচল নিয়মিতভাবে ঝুঁকি বাড়ায়।
স্থানীয় প্রশাসন নৌকা চালকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং কুয়াশা সময়ে নেভিগেশন নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, নদীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে।
অধিক তদন্তের পর যদি কোনো অবহেলা বা অপরাধমূলক কাজ প্রকাশ পায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে, নৌকা ডুবে যাওয়ার ফলে কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।



