বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুক্রবার বিকেলে নগরীর প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকারকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তৃতার সূচনায় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ‘রেইনবো নেশন’ ধারণা উল্লেখ করেন, যা তিনি দেশের বহুবর্ণী, বহুমুখী সমাজের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন। খালেদা জিয়া দেশের রঙের সমন্বয়ে গঠিত রেইনবো দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা তিনি আজকের রাজনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেন।
খসরু লিবারেল গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, রেইনবো জাতিতে প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে এবং দেশটি সকলের জন্য সমান হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
বিএনপি নেতার মতে, বাংলাদেশ বহু অশান্তি পার করেছে, তবু এখন একত্রে কাজ করে এমন একটি দেশ গড়ে তোলা সম্ভব যেখানে প্রত্যেকের অধিকার ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে স্বীকৃত হবে। তিনি এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো বৈষম্যের সুযোগ থাকবে না।
ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর আজীবন সেবা ও সমাজসেবার উদাহরণ অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি, তিনি এ কথায় জোর দেন। মহাথেরোর দর্শনকে ভবিষ্যৎ জাতির গঠনে পাথেয় হিসেবে উল্লেখ করে, সকলকে তার আদর্শ গ্রহণের আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরেও তার চেতনা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাবশালী থাকবে, খসরু এ কথা উল্লেখ করে বলেন যে তার আত্মা আজীবন দেশের সঙ্গে থাকবে। তিনি ভবিষ্যতে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত বৈষম্য না থাকা একটি সমাজের স্বপ্ন বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ানও বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি দলের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানের কথা বলেন। তার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সমবেত হয়ে সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো, যাকে বৌদ্ধ ধর্মের সর্বোচ্চ গুরু হিসেবে গণ্য করা হয়, ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেন। তিনি সমাজসেবায় একুশে পদকপ্রাপ্ত ছিলেন এবং দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছেন।
মহাথেরোর মৃত্যু উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করে। দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে, শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় তার দেহধাতু রাউজানা বিনাজুরী শ্মশান বিহারে নিয়ে যাওয়া হবে।
এই অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে দেশের বহুমুখী পরিচয়কে পুনরায় নিশ্চিত করার একটি মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খসরুর রেইনবো নেশন ধারণা এবং মহাথেরোর সামাজিক সেবার স্মরণ একসঙ্গে দেশের ঐক্য ও সমন্বয়ের বার্তা বহন করে। ভবিষ্যতে কোনো বৈষম্য না থাকা, সকলের অধিকার রক্ষিত একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত।



