পোর্টসমাউথ ও চার্লটনের মধ্যে ফ্র্যাটন পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ভ্লগে ভক্তদের ক্যামেরা থেকে আনন্দ, লজ্জা এবং অস্তিত্বগত দ্বিধার দৃশ্যগুলো ধরা পড়েছে। এই দৃশ্যগুলো প্রচলিত হাইলাইট রিলে থেকে ভিন্নভাবে খেলোয়াড় ও ভক্তের মানবিক দিককে তুলে ধরেছে।
টকস্পোর্টের নতুন বছরের ইভে শোতে হোস্ট ম্যাক্স রাশডেনকে কেন্টের এক শোনানকারী ববের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা জানানো হয়। বব রাশডেনের শৈলীকে ‘বোরিং’ এবং ‘সস্তা’ বলে উল্লেখ করে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাশডেন শোনানকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জানান যে সব দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে কিছু দর্শকের জন্য তিনি গ্রহণযোগ্য হতে পারেন।
রাশডেনের মন্তব্যে ফুটবলের সম্প্রচারকে একটি বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর জন্য সহনীয় রাখতে হবে, যদিও সব সময় আনন্দদায়ক না-ও হতে পারে। তিনি স্বীকার করেন যে দর্শকের প্রত্যাশা ভিন্ন হতে পারে এবং প্রত্যেকের জন্য একসাথে সবকিছু করা কঠিন।
ফুটবলের মাঠে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ে রাশডেনের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি বলেন, প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ফোনে রেকর্ড করা তার নিজস্ব ফুটবল উপভোগের পদ্ধতিকে ক্ষুণ্ন করে। পুরনো দিনের স্মৃতি, যখন কোনো রেকর্ডিং না থাকলেও, কল্পনায় আরও রঙিন হয়ে থাকে।
১৯৯০‑এর দশক ও ২০০০‑এর শুরুর দিকে নিউমার্কেট রোড এন্ডে রেকর্ডিং না থাকলেও ভক্তদের স্মৃতি তীক্ষ্ণ ছিল। রাশডেন উল্লেখ করেন, সেই সময়ের ‘মেমরি’ গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি রোমান্টিক হয়ে উঠেছিল, কারণ কোনো দৃশ্যের অভাব কল্পনাকে উন্মুক্ত করেছিল।
যদি তিনি দুই দশক আগে জন্মগ্রহণ করতেন, তবে তিনি নিজেও ভ্লগার হতেন বলে অনুমান করা হয়। তবে আজকের মোবাইল ফিল্মিং ছাড়া ২০২৫ সালের কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত হারিয়ে যেত।
২০২৫ সালের ফাইনালে, ক্রিস্টাল প্যালেসের ভক্তরা ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপ জয়ের পর বিস্ময় ও আনন্দের মিশ্রণে ক্যামেরা চালু করেছিল। তাদের মুখের অভিব্যক্তি ও প্রশ্নগুলো ভ্লগে রেকর্ড হয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছায়।
ইউরোপা লিগ ফাইনালে, টটেনহ্যাম হটস্পারের ভক্তরা পূর্ণ সময়ের সিগন্যালের পর উল্লাসে মত্ত হয়ে রেকর্ডিং শেয়ার করেছিল। এই দৃশ্যগুলো ভক্তের উচ্ছ্বাসকে সরাসরি ক্যামেরা দিয়ে ধরেছে, যা প্রচলিত মিডিয়ার তুলনায় বেশি স্বতঃস্ফূর্ত।
হ্যাম্পডেনের প্রতিটি সিট এবং স্কটল্যান্ডের পাবগুলোতে ফুটবল ভক্তদের রেকর্ডিং দেখা যায়, যেখানে তারা ম্যাচের ফলাফল নিয়ে তৎক্ষণাৎ মন্তব্য করে। এই ধরনের রিয়েল-টাইম শেয়ারিং ভক্তের অভিজ্ঞতাকে সম্প্রসারিত করে।
রাশডেনের মতে, ভক্তের নিজস্ব ক্যামেরা ফুটবলের মানবিক দিককে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভিডিওগুলো কেবল আনন্দই নয়, কখনো কখনো লজ্জা ও আত্মসমালোচনার মুহূর্তও ধারণ করে, যা খেলাটিকে আরও বাস্তবিক করে।
ফ্যান ভ্লগের উত্থান এবং তার প্রভাব নিয়ে রাশডেনের বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে কীভাবে ফুটবলের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দর্শকরা সরাসরি ক্যামেরা দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে খেলাটির সমৃদ্ধি বাড়াবে।
পরবর্তী সপ্তাহে পোর্টসমাউথ ও চার্লটনের মধ্যে পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ভক্তের রেকর্ডিং আবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। ফুটবলের এই ডিজিটাল রেকর্ডিং সংস্কৃতি কীভাবে বিকশিত হবে, তা সময়ই বলবে।



