প্রাক্তন পেশাদার ফুটবলার ডেভিড হুইলারের মতে, পেশা ত্যাগ করা সহজ নয়; তিনি সম্প্রতি তার অবসরের পর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। দীর্ঘ সময় মাঠে থাকা তাকে দিকনির্দেশনা, অন্তর্ভুক্তি, লক্ষ্য এবং স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা ছেড়ে দিলে জীবনে একটি বড় শূন্যতা দেখা দেয়।
হুইলারের ফুটবলে যাত্রা তাকে আত্মবিশ্বাসের স্রোতে ভাসিয়ে তুলেছিল, যেখানে দলীয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত হলেও, শারীরিক সংকেতের সঙ্গে মানসিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি স্বীকার করেন, এই পরিবর্তন তাকে গভীর শোকের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেছে।
অবসরের পর তিনি যে শোকের অনুভূতি বর্ণনা করেছেন, তা প্রিয়জনের মৃত্যুর শোকের সঙ্গে তুলনীয়। তবে এখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেই; তার জীবনের একটি বিশাল অংশ, যা ফুটবলে গড়ে উঠেছিল, তা হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। এই শূন্যতা কেবল দুঃখ নয়, বরং রাগ, বিভ্রান্তি এবং অস্বস্তি সহ একাধিক আবেগের মিশ্রণ।
দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনও বড় চ্যালেঞ্জের একটি দিক। মাঠে প্রশিক্ষণ, ম্যাচ এবং দলের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়, ফলে উদ্দেশ্য স্পষ্ট না থাকে এবং পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হুইলারের মতে, এই অনিশ্চয়তা নতুন জীবনের পথে অগ্রসর হওয়ার সময় মানসিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।
ফুটবলে প্রতিযোগিতা এবং আঘাতের মোকাবিলা স্বাভাবিক; খেলোয়াড়রা সবসময় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য লড়াই করে। এই মানসিকতা তার আত্মবোধের অংশ হয়ে গিয়েছিল। অবসর আসার সঙ্গে সঙ্গে, অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রবণতা ছেড়ে দেওয়া নিজেই একটি মানসিক বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দেহের সংকেত যখন বলে যে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তখন মনের ভেতরে একটি বিরোধ দেখা দেয়। একদিকে শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে বিশ্রাম নেওয়ার ইচ্ছা, অন্যদিকে পুরনো অভ্যাসের কারণে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। হুইলারের মতে, এই দ্বন্দ্বকে অতিক্রম করা মানে নিজের সীমা স্বীকার করা এবং নতুন পথ খোঁজা।
নিজের দেহের প্রতি দয়া এবং সহানুভূতি এখন সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। এটি গ্রহণ করতে সাহসের প্রয়োজন, কারণ অজানা পথে পা বাড়ালে ভয় এবং উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। তবে তিনি জোর দেন, ভয়কে অগ্রসর হওয়ার ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সিউসান ডেভিডের ধারণা অনুসারে, সাহস মানে ভয় না থাকা নয়, বরং ভয়কে সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হওয়া। হুইলারের অভিজ্ঞতা এই তত্ত্বের বাস্তব উদাহরণ, যেখানে তিনি ভয়কে স্বীকার করে নিজের জন্য সঠিক পথ বেছে নিয়েছেন।
অবসর গ্রহণের পর হুইলারের লক্ষ্য কেবল নিজের পুনর্গঠন নয়, বরং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি মেন্টরিং সিস্টেম গড়ে তোলা। তিনি তার ক্যারিয়ারের সময়ের শিক্ষা ও ভুলগুলোকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান, যাতে তারা একই ধরণের মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না হয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলছেন, অবসর মানে শেষ নয়, বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা। তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়রা নিজেদের পরিচয় ও উদ্দেশ্যকে মাঠের বাইরে পুনর্গঠন করতে পারবে।
ডেভিড হুইলারের গল্পটি ফুটবলের বাইরে সকল পেশাজীবীর জন্য একটি সতর্কতা: পেশা ত্যাগের সময় মানসিক প্রস্তুতি এবং আত্ম-সচেতনতা অপরিহার্য। তিনি আশা করেন, তার গল্প অন্যদেরকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে অনুপ্রাণিত করবে।



