শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া স্বীকৃতিপত্রে তার বার্ষিক আয় ১১,৮৪,৩১৮ টাকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শিমুল পূর্বে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আইনজীবী, বর্তমানে সমাজসেবক এবং দৈনিক দিনকালের ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বীকৃতিপত্রে দেখা যায়, তার মোট বেতন ৮,৮০,০০০ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ২,৮০,৫০০ টাকা এবং ব্যাংক সুদ থেকে ২৩,৮১৮ টাকা হয়েছে। এই তিনটি উপাদান মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় ১১,৮৪,৩১৮ টাকা।
সম্পদের ক্ষেত্রে, শিমুলের চলমান সম্পদ ৯৬,২৬,৮৩৪ টাকা, যার মধ্যে ব্যাংক জমা, নগদ ও অন্যান্য সঞ্চয় ৮২,২৪,৩২৫ টাকা এবং ব্যবসা মূলধন ১৩,৫৮,৫০৯ টাকা অন্তর্ভুক্ত। স্বীকৃতিপত্রে কোনো অচল সম্পত্তি, বাড়ি বা জমি উল্লেখ করা হয়নি।
দস্তাবেজে শিমুলের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় মোট ১৩২টি অপরাধমূলক মামলা দায়ের হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১১৫টি মামলা বাতিল করা হয়েছে, তবে ১৭টি মামলা এখনও বিভিন্ন আদালতে চলমান।
বিএনপি কর্মীরা দাবি করেন, শিমুলকে গত পনেরো বছর ধরে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ শাসনকালে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ থেকে এই মামলাসমূহ বা আর্থিক প্রকাশনা সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের আর্থিক ও আইনি তথ্যের প্রকাশ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত পাবনা-৫ের মতো সংবেদনশীল এলাকায়।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে শিমুলের ব্যবসায়িক আয় ও নগদ সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, তবে তার অচল সম্পত্তি না থাকা তাকে সাদামাটা নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করার যুক্তি দেয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন স্বীকৃতিপত্রের সঠিকতা যাচাই করবে এবং সম্পদ ঘোষণার নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করবে; কোনো অসঙ্গতি প্রকাশ পেলে প্রার্থীর যোগ্যতায় প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, শিমুলের আইনি রেকর্ডের অধিকাংশ মামলা মুছে ফেলা এবং স্বচ্ছ আর্থিক বিবরণ তার নির্বাচনী অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে বাকি থাকা ১৭টি মামলার ব্যবহার বিরোধীরা তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।



