লিডস ইউনাইটেড যখন এই সপ্তাহান্তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে, তখন কিছু ভক্তের মনে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে এক খেলোয়াড়ের বিতর্কিত স্থানান্তরের স্মৃতি জাগে। সেই স্থানান্তরটি ছিল অ্যালান স্মিথের, যিনি গ্রীষ্মকালে লিডসের ইল্যান্ড রোড থেকে পেনিনেস পার করে রিভার্ডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন। ২০০৪ সালের গ্রীষ্মে £৭ মিলিয়ন ফি দিয়ে স্মিথের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ লিডসের সমর্থকদের মধ্যে বিস্ময় ও রাগ উভয়ই সৃষ্টি করে, কারণ দুই ক্লাবের মধ্যে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র।
স্মিথের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তিন বছর কাটলেও, তার পারফরম্যান্স লিডসে অর্জিত উঁচু মানের সমান হতে পারেনি। লিডসের ঘরে জন্মানো স্ট্রাইকারের জন্য এই সময়টি ছিল তার ক্যারিয়ারের শীর্ষের তুলনায় নিম্ন স্তরে সীমাবদ্ধ। তবে এই ক্রীড়া ঘটনার প্রভাব কেবল ইংল্যান্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না; দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ভাষাগত প্রবণতা গড়ে ওঠে, যা আজও সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।
কোরিয়ান ভাষায় “Leeds days” নামে একটি বাক্যাংশ জনপ্রিয়তা পায়, যার অর্থ হয় জীবনের শীর্ষ সময় বা সর্বোচ্চ মুহূর্ত। এই অভিব্যক্তি এখন দেশের ৫২ মিলিয়ন মানুষ দৈনন্দিন কথোপকথনে ব্যবহার করে, যদিও তাদের বেশিরভাগই লিডস শহর বা অ্যালান স্মিথের সম্পর্কে জানেন না। বাক্যটির উৎপত্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা মানুষদের জন্য তা ব্যাখ্যা করা প্রায়ই প্রয়োজন হয়।
লিডস ইউনাইটেডের কোরিয়ান সমর্থক গোষ্ঠীর সংযোগকারী জশ ওয়াইলম্যান এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি হেমসওর্থ, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার থেকে আসা এবং ২০১৭ সালে ৫,০০০ মাইল দূরে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে আট বছর কাজ করেছেন। গত মাসে তিনি আবার ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছেন। ওয়াইলম্যানের মতে, তিনি যখন ১২ বছর বয়সে ছিলেন, তখন অ্যালান স্মিথের পেনিনেস পার হওয়া তার প্রথম ফুটবল হৃদয়ভঙ্গ ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম বছরেই তিনি “Leeds days” বাক্যটি শোনেন, যা আগে কখনো শোনেননি। তিনি স্মরণ করেন, প্রথম কাজের সহকর্মী একজন বার্নস্লি বাসিন্দা, যিনি ফুটবলে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন; তিনি ওয়াইলম্যানকে এই বাক্যটির অর্থ ব্যাখ্যা করেন। এই অভিজ্ঞতা ওয়াইলম্যানের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে, যা তিনি হাস্যরসের সঙ্গে উল্লেখ করেন।
কোরিয়ান অনলাইন ফোরামে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে এই বাক্যটি প্রথম উদ্ভব হয়, বিশেষ করে যখন দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পার্ক জি-সুং ২০০৫ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন, যা স্মিথের স্থানান্তরের এক বছর পরে ঘটেছিল। সেই সময়ে কোরিয়ান ভক্তরা ইংলিশ ফুটবলের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করছিলেন, এবং “Leeds days” বাক্যটি স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয়।
আজকের কোরিয়ান ভাষায় “Leeds days” শব্দটি জীবনের শীর্ষ মুহূর্তকে বর্ণনা করার জন্য সাধারণ শব্দ হয়ে উঠেছে, যদিও এর উৎপত্তি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ অবগত নয়। এই বাক্যটি কেবল একটি ফুটবল স্থানান্তরের স্মৃতি নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ছাপ যা ক্রীড়া ও ভাষার সংযোগকে প্রকাশ করে।
লিডস ইউনাইটেডের ভক্তরা যখন এই সপ্তাহান্তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, তখন স্মিথের স্থানান্তরের স্মৃতি আবার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। যদিও স্মিথের পারফরম্যান্স ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তার স্থানান্তর কোরিয়ান ভাষায় একটি নতুন অভিব্যক্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছিল, যা এখনো সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।
এই ম্যাচটি দুই ক্লাবের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং ভক্তদের মধ্যে স্মিথের স্থানান্তরের স্মৃতি পুনরায় উন্মোচিত হবে। উভয় দলের সমর্থকরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের উত্তেজনা উপভোগ করবেন।
লিডসের হোম গেমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগমন কেবল মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং অতীতের স্মৃতি ও আন্তর্জাতিক ভাষা সংস্কৃতির সংযোগের প্রতীক। এই ম্যাচের ফলাফল ভবিষ্যতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো অজানা, তবে ক্রীড়া ইতিহাসের এই অংশটি ইতিমধ্যে বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্মিথের £৭ মিলিয়ন স্থানান্তর, তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তিন বছরের সময়কাল, এবং কোরিয়ান ভাষায় “Leeds days” বাক্যটির উদ্ভব—all these facts together illustrate how a single football transfer can ripple across continents, influencing language and popular culture far beyond the pitch.



